ডিসেম্বরের প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন: ইসি সানাউল্লাহ

0
201


প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে কড়াকড়ি, আচরণবিধি চূড়ান্ত

আগামী ডিসেম্বরের প্রথমার্ধেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আপনারা ধরে নিতে পারেন, ডিসেম্বরের প্রথমার্ধেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। ভোট হবে পবিত্র রমজান মাস শুরুর আগেই। ১৮ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরু হলে তার আগেই শপথ ও সরকার গঠনের সময় রেখে নির্বাচন হবে।”

আচরণবিধি চূড়ান্ত, আরপিও সংশোধন চলমান

সেই দিনই সিইসি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রার্থীদের আচরণবিধি চূড়ান্ত করা হয়। তবে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন নিয়ে আলোচনা চলমান থাকায় তা পরবর্তী সভায় চূড়ান্ত করা হবে।

প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালট

ইসি জানায়, এবারই প্রথম প্রবাসী বাংলাদেশিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন। তবে সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ে শুধুমাত্র প্রতীকের ছবি সংবলিত ব্যালট পাঠানো হবে, যেখানে প্রার্থীর নাম থাকবে না। ব্যালটে ভোট দিয়ে সেটি ঢাকায় ফেরত পাঠাতে হবে। প্রার্থীদের নাম অনলাইনে দেখা যাবে।

প্রবাসী ভোটারদের রেজিস্ট্রেশনের জন্য তিন সপ্তাহ সময় দেওয়া হবে। তবে প্রার্থিতা বাতিল হলে সংশ্লিষ্ট আসনের পোস্টাল ব্যালট বন্ধ করে দেওয়া হবে। ইসি’র মতে, প্রতি লাখ ভোটারের পোস্টাল ব্যালটে ব্যয় হবে ৬-৭ কোটি টাকা।

নতুন ২০ লাখ ভোটার

নতুন ভোটার সংযোজন প্রসঙ্গে সানাউল্লাহ জানান, ভোটার তালিকা আইনে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ হবে, তারা ভোটার তালিকায় যুক্ত হবেন। এবার আনুমানিক ১৮ থেকে ২০ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হবে।

এআই অপব্যবহারে সতর্ক নির্বাচন কমিশন

ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে নির্বাচন কমিশন। আচরণবিধিতে এর বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট বিধান যুক্ত করা হয়েছে। শুধু প্রার্থী নয়, অন্যান্য পক্ষের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নির্বাচনে ড্রোন নিষিদ্ধ, সিসিটিভি ব্যবহারে চিন্তা

প্রার্থী বা তাদের এজেন্টদের জন্য ড্রোন বা কোয়াডকপ্টার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কমিশন। তবে প্রয়োজনে ইসি নিজে ড্রোন ব্যবহার করতে পারবে।

ভোটকেন্দ্রে নজরদারির জন্য সিসিটিভি স্থাপনের বিষয়েও ভাবছে ইসি। দেশের প্রায় ৪৫ হাজার কেন্দ্রে এটি বাস্তবায়ন ব্যয়বহুল ও কঠিন হওয়ায় বিদ্যমান ক্যামেরা বা ভাড়া নেওয়ার মতো বিকল্পও ভাবা হচ্ছে।

Previous articleশেখ হাসিনাকে ফেরত আনতে প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়া হবে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
Next articleবাংলাদেশের অর্থনীতিতে গতি ফিরছে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here