বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক অনন্য কণ্ঠ বদরুদ্দীন উমর আর নেই। ৯৪ বছরের দীর্ঘ জীবনে তিনি ছিলেন আপসহীন, নির্ভীক ও প্রজ্ঞার প্রতীক।
জুলাই আন্দোলনের সময় তিনি নির্দ্বিধায় বলেছিলেন, “১৯৫২ থেকে যত গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে, এটিই সবচেয়ে ব্যাপক।” এমন স্পষ্ট উচ্চারণে যখন অনেকেই নীরব ছিলেন, তখনও উমর ছিলেন দৃঢ়।
ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পরবর্তী প্রতিটি সরকারের সময়েই তিনি ছিলেন সমালোচক কণ্ঠ। শেখ মুজিব থেকে জিয়াউর রহমান কিংবা শেখ হাসিনা—কাউকেই ছাড় দেননি। ইতিহাস, রাজনীতি ও সংস্কৃতি নিয়ে তাঁর অসংখ্য গ্রন্থ আজও পাঠকের কাছে দিকনির্দেশক।
উমরের লেখায় যেমন ছিল নির্মোহ বিশ্লেষণ, তেমনি জীবনে ছিল আপসহীন অবস্থান। কোনো পুরস্কার গ্রহণ না করে তিনি বলেছিলেন, “আমি নিজের তাগিদে, নিজের আনন্দে বই লিখি। এর জন্য কেউ পুরস্কার দেবে, এটা আমি গ্রহণ করব না।”
তাঁর মৃত্যুতে এক বিরল চিন্তাশক্তির অবসান হলেও উত্তর প্রজন্মের জন্য রয়ে গেল সাহস ও সত্য বলার দৃষ্টান্ত। বদরুদ্দীন উমর তাই আমাদের ইতিহাসে হয়ে থাকবেন অমরত্বের সন্তান।























































