ভারতের পেহেলগামে সশস্ত্র হামলার সঙ্গে পাকিস্তানকে জড়িয়ে ভারতের করা অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। আজ শুক্রবার পাকিস্তানের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব পাস করা হয়, যেখানে এ ধরনের অভিযোগকে সম্পূর্ণভাবে নিন্দা জানানো হয়েছে।
সিনেটে প্রস্তাব উত্থাপন
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার প্রস্তাবটি উত্থাপন করে বলেন, দেশটির সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় পাকিস্তান সম্পূর্ণ প্রস্তুত। প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, পাকিস্তানের মূল্যবোধের সঙ্গে নিরীহ মানুষের হত্যাকাণ্ড অসামঞ্জস্যপূর্ণ। একইসঙ্গে ভারত সরকার পরিকল্পিতভাবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
কাশ্মীরের পেহেলগাম হামলা
গত মঙ্গলবার পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত হন, যার মধ্যে একজন নেপালি এবং বাকিরা ভারতীয়। ঘটনার পর ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে এবং সিন্ধু পানি চুক্তি একতরফাভাবে স্থগিতসহ সীমান্ত বন্ধের মতো পদক্ষেপ ঘোষণা করে।
পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া
পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি (NSC) ভারতের সিদ্ধান্তকে “যুদ্ধের উসকানি” বলে অভিহিত করে। কমিটির সিদ্ধান্তে ভারতের আকাশসীমা ও ওয়াগা সীমান্ত বন্ধ করা এবং ভারতীয় নাগরিকদের সার্ক ভিসা বাতিলের মতো পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সিনেটে প্রস্তাবের বক্তব্য
প্রস্তাবে পাকিস্তান তার শান্তি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং দেশটির স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছে। একইসঙ্গে দাবি করা হয়েছে, ভারতকে সন্ত্রাস ও গুপ্তহত্যার জন্য জবাবদিহি করতে হবে।
পাকিস্তানের সিনেটে শেরি রেহমান মন্তব্য করেন, “ভারত পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে, যা কখনো হতে দেওয়া হবে না।” তিনি আরও বলেন, “অতীতের যেকোনো যুদ্ধেও সিন্ধু পানি চুক্তি অক্ষুণ্ণ ছিল, কিন্তু এখন তারা এটি লঙ্ঘনের চেষ্টা করছে।”
পাকিস্তানের অঙ্গীকার
প্রস্তাবে কাশ্মীরি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি পাকিস্তানের নৈতিক, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।





















































