পরিকল্পিত যাকাত ব্যবস্থাপনায় দারিদ্র বিমোচন সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

0
64

নিজস্ব প্রতিবেদক

পরিকল্পিত ও লক্ষ্যভিত্তিক যাকাত ব্যবস্থাপনা চালু করা গেলে দারিদ্র বিমোচনে বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ।

শনিবার রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় দেশের আলেম-ওলামা, মাশায়েখ ও এতিমদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পিতভাবে যাকাত বণ্টন করা গেলে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে শুধু যাকাত ব্যবস্থাপনাকেই দারিদ্র বিমোচনের একটি কার্যকর উপায় হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।

তিনি বলেন, দেশে ধনী-দরিদ্র মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় চার কোটি পরিবার রয়েছে। এসব পরিবারের মধ্যে দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে প্রতিবছর পর্যায়ক্রমে পাঁচ লাখ পরিবারকে এক লাখ টাকা করে যাকাত দেওয়া হলে বেশিরভাগ পরিবার পরের বছর আর যাকাত নেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করবে না।

যাকাত ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হলো যাকাত। দেশে অনেক বিত্তবান ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে যাকাত দেন, আবার কেউ কেউ সরকারের যাকাত বোর্ডের মাধ্যমেও যাকাত পরিশোধ করেন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর যাকাতের পরিমাণ প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি।

তবে সুপরিকল্পিত ও সুসংগঠিতভাবে যাকাত বণ্টন না হওয়ায় এই অর্থ দারিদ্র বিমোচনে কতটা ভূমিকা রাখছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাকাত দাতাদের এমনভাবে যাকাত বণ্টনে উৎসাহিত করা হয়, যাতে একজন ব্যক্তি একবার যাকাত গ্রহণের পর পরের বছর আর যাকাত গ্রহণের প্রয়োজন না পড়ে। তাই পরিকল্পিতভাবে যাকাত ব্যবস্থাপনা চালু করা গেলে তা দারিদ্র দূরীকরণে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারে।

এ বিষয়ে আলেম-ওলামাদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচনের উদ্যোগ সফল করতে বিত্তবানদের সচেতন করার ক্ষেত্রে আলেম-ওলামারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। এজন্য শীর্ষস্থানীয় আলেম, ইসলামিক স্কলার ও সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে যাকাত বোর্ড পুনর্গঠনের কথাও বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যাকাতকে দারিদ্র বিমোচনের একটি কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার করে বাংলাদেশকে ইসলামী বিশ্বের সামনে একটি মডেল হিসেবে উপস্থাপন করা সম্ভব।

রমজান মাসে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর প্রবণতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, পবিত্র রমজান ত্যাগ ও সংযমের মাস। অথচ এ সময় কেউ কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। অসাধু ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, যেন তারা মানুষের কষ্টের কারণ না হন।

অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে এ বছর রমজানে সীমিত পরিসরে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এবারের রমজানে সম্ভবত এটিই শেষ ইফতার অনুষ্ঠান বলে উল্লেখ করেন তিনি।

Previous articleরিজার্ভ ধরে রাখা ও নীতি সুদহার এখনই না কমানোর পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের
Next articleপ্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে পারেন খন্দকার মোশাররফ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here