নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ নিয়ে ভারতের প্রেস নোট প্রত্যাখ্যান করল ঢাকা

0
78

নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে সংঘটিত বিক্ষোভ নিয়ে ভারতের প্রকাশিত প্রেস নোট দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত সুরক্ষিত এলাকায় কীভাবে বিক্ষোভকারীরা প্রবেশ করতে পারল, সে বিষয়ে গুরুতর নিরাপত্তা ঘাটতির প্রশ্ন তুলেছে ঢাকা।

রোববার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ভারতের প্রেস নোটে ঘটনাটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেন এটি খুবই সাধারণ বিষয়। বাস্তবে বিষয়টি তা নয়। বাংলাদেশ হাইকমিশন কোনো প্রান্তিক এলাকায় নয়, বরং একটি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত কূটনৈতিক অঞ্চলের ভেতরে অবস্থিত।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, প্রেস নোটে বিষয়টি অতিসরলীকরণ করা হয়েছে। অথচ প্রশ্ন হলো, কীভাবে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল—যাদের একটি উগ্র হিন্দু সংগঠনের সদস্য হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে—এত সংবেদনশীল এলাকায় প্রবেশ করতে পারল। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে অনুমতি ছাড়া সেখানে পৌঁছানো সম্ভব হওয়ার কথা নয়।

তিনি আরও বলেন, বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা ২০ বা ৩০—এটি মূল বিষয় নয়। আসল প্রশ্ন হলো, তারা কীভাবে সেখানে ঢুকল এবং কীভাবে হুমকিমূলক স্লোগান ও বক্তব্য দিতে পারল।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, বিক্ষোভকারীরা শুধু বাংলাদেশে একজন হিন্দু নাগরিক হত্যার ঘটনায় স্লোগান দেয়নি, বরং আরও বক্তব্য দিয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো বিভ্রান্তিকর নয়; বরং সেগুলো মূলত সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে হত্যার হুমকির কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ তার কাছে নেই। তবে এমন হুমকি দেওয়া হয়েছে—এমন কথা শোনা গেছে। তিনি বলেন, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, কীভাবে তারা সেখানে এসে এমন হুমকি দেওয়ার সুযোগ পেল।

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক রীতিনীতির কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সাধারণত বিক্ষোভের ক্ষেত্রে আগেই কর্তৃপক্ষকে জানাতে হয় এবং পুলিশ নির্দিষ্ট দূরত্বে বিক্ষোভকারীদের আটকে দেয়। অনেক সময় একজন বা দুজন প্রতিনিধিকে স্মারকলিপি দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু এখানে যে ঘটনা ঘটেছে, তা বাংলাদেশ মেনে নিতে পারছে না।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় স্বাভাবিক নিরাপত্তা বিধি ও প্রটোকল যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। বাংলাদেশ ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সে দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আর যেন না ঘটে—সে প্রত্যাশা জানিয়েছে।

ঢাকার প্রতিবাদের ধরন সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, উভয় দেশ কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখছে। তবে ভারতের প্রেস নোট প্রকাশের পর বাংলাদেশ প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হয়েছে।

বাংলাদেশি কূটনীতিকদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকা এখনো ভারতের ওপর আস্থা রাখে যে তারা যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেবে। তবে পরিস্থিতির অবনতি হলে উপস্থিতি সীমিত করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, হাইকমিশনার ও তাঁর পরিবার মিশন প্রাঙ্গণেই বসবাস করেন। ঘটনার সময় সেখানে মাত্র দুইজন নিরাপত্তাকর্মী থাকায় তারা হুমকির মুখে পড়েন। কূটনৈতিক মিশন ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা স্বাগতিক দেশের দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে একজন নাগরিকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে সংখ্যালঘু নিরাপত্তার প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ঘটনার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে এবং একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।

স্থানীয় সময় শনিবার রাত আনুমানিক নয়টার দিকে ‘অখণ্ড হিন্দু রাষ্ট্র সেনা’-র ব্যানারে একদল মানুষ দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ করেন।


Previous articleভোটে বিশৃঙ্খলা করলে ছাড় নয়: ইসি সানাউল্লাহ
Next articleমুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে আরও ৬ কোটি ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here