নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা | ২৫ অক্টোবর ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রে চীনের তৈরি পোশাকে শুল্ক বাড়ায় নতুন বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশকে বেছে নিচ্ছে চীনা উদ্যোক্তারা। উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক কম, পর্যাপ্ত শ্রমশক্তি এবং ইউরোপীয় বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার—এসব কারণেই চীনা কোম্পানিগুলোর আগ্রহ বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে চীন থেকে এসেছে ৫৩ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ, যার মধ্যে টেক্সটাইল খাতেই ৩০ মিলিয়ন ডলারের বেশি। বিজিএমইএ জানিয়েছে, গত এক বছরে ২০টিরও বেশি পোশাক কারখানায় চীনের বিনিয়োগ এসেছে—এর মধ্যে নতুন কারখানার পাশাপাশি বন্ধ বা অচল কারখানাও ভাড়ায় নিয়ে চালু করা হয়েছে।
বিজিএমইএ–এর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, “চীনা বিনিয়োগকারীরা এখন নতুন কারখানা ছাড়াও পুরোনো কারখানায় উৎপাদন শুরু করছেন। এতে দ্রুত উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে।”
বাংলাদেশ–চীন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খোরশেদ আলম জানান, চীনের অন্তত তিনটি টেক্সটাইল মিল বাংলাদেশে নতুন কারখানা স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সম্প্রতি বলেন, প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলারের নতুন বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কয়েকটি চীনা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে সোহো ফ্যাশন গ্রুপ ঢাকায় তাদের প্রতিনিধি অফিস চালু করেছে।
বেপজার তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ২৪টি চীনা কোম্পানি জমি লিজের চুক্তি করেছে, যার ১০টি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের। হংকং–ভিত্তিক হানদা ইন্ডাস্ট্রিজ একাই ২৫০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।
অর্থনীতিবিদ মোস্তফা আবিদ খান বলেন, “চীনা বিনিয়োগে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং প্রযুক্তি আসবে—এটি বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক।” তবে তিনি সতর্ক করেন, গ্যাস–সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা নতুন বিনিয়োগের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে।




















































