গাজা সিটির ‘দখল’ নিতে ৬০ হাজার রিজার্ভ সেনা ডাকল ইসরায়েল

0
142

গাজা সিটি দখলের জন্য নতুন স্থল অভিযান চালাতে যাচ্ছে ইসরায়েল। এ জন্য প্রায় ৬০ হাজার রিজার্ভ সেনাকে তলব করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরে এ সেনারা দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত থাকবে। তবে অভিযানে মূল ভূমিকা নেবে সেনাবাহিনীর নিয়মিত সদস্যরা।

মঙ্গলবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ অভিযানের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন। চলতি সপ্তাহের শেষে এটি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এরই মধ্যে জাইতুন ও জাবালিয়া এলাকায় অভিযান শুরু করেছে সেনারা।

ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতির শঙ্কা

অভিযানের কারণে গাজা সিটির কয়েক লাখ মানুষকে দক্ষিণাঞ্চলে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দক্ষিণের আল-মাওয়াসি এলাকায় খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র ও ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা সতর্ক করেছে, নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান ও বাস্তুচ্যুতি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনবে। দক্ষিণের হাসপাতালগুলো আগে থেকেই রোগীতে উপচে পড়ছে, সেখানে আরও মানুষ ঠাঁই নিলে ‘জীবন-মরণ সংকট’ তৈরি হবে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাগুলো।

নেতানিয়াহুর ঘোষণা

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, সেনাদের মূল লক্ষ্য হলো হামাসের হাতে থাকা সব জিম্মিকে মুক্ত করা এবং ফিলিস্তিনি এই সংগঠনকে “সম্পূর্ণ পরাজিত” করা। ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি, অভিযানে অন্তত পাঁচটি ডিভিশন অংশ নেবে।

প্রাণহানি ও মানবিক পরিস্থিতি

হামাস-শাসিত গাজা সিটির সিভিল ডিফেন্স জানায়, মঙ্গলবার জাইতুন ও সাবরা এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। পশ্চিম গাজার শাতি শরণার্থী শিবিরে একটি বাড়িতে বোমা হামলায় এক পরিবারের পাঁচ সদস্য—তিন শিশু ও বাবা-মা—নিহত হন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলার জবাবে ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে। ওই হামলায় ইসরায়েলে প্রায় ১,২০০ জন নিহত হয় এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এরপর থেকে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ৬২ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।

জাতিসংঘ বলছে, গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। স্বাস্থ্যসেবা, পানি ও খাদ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সেখানে এখন “দুর্ভিক্ষের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি” তৈরি হচ্ছে।

Previous articleআলপির জোড়া গোলে ভুটানকে হারিয়ে শুভ সূচনা বাংলাদেশের
Next articleপাকিস্তানের সঙ্গে ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কমিশন গঠন করবে বাংলাদেশ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here