ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইয়েমেনের হুথি সরকারের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ গালেব আল-রাহাভি নিহত হয়েছেন। রাজধানী সানায় বৃহস্পতিবার চালানো ওই হামলায় আরও কয়েকজন মন্ত্রী প্রাণ হারান বলে জানিয়েছেন হুথিদের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পরিষদের প্রধান মাহদি আল-মাশাত।
এটাই প্রথমবার, যখন গোষ্ঠীটির শীর্ষ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা ইসরায়েলের হামলায় নিহত হলেন।
কী ঘটেছিল
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, সানার একটি সমাবেশে লক্ষ্যভেদী বিমান হামলা চালানো হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী আল-রাহাভি ও কয়েকজন শীর্ষ হুথি কর্মকর্তা ‘নির্মূল’ হয়েছেন। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিহতদের মধ্যে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি।
সৌদি সংবাদমাধ্যম আল-হাদাথের দাবি, নিহতদের মধ্যে হুথি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিচারমন্ত্রী, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী এবং সমাজকল্যাণ ও শ্রমমন্ত্রীও রয়েছেন।
রাহাভি কে ছিলেন
মাত্র এক বছর আগে রাহাভিকে প্রধানমন্ত্রী করা হয়। তবে তাকে মূলত আলঙ্কারিক প্রধান হিসেবে দেখা হতো। বাস্তবে সরকারের কার্যক্রম চালাতেন উপপ্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ মিফতাহ। রাহাভি ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট আলি আব্দুল্লাহ সালেহর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। পরে তিনি হুথিদের সঙ্গে যোগ দেন।
২০১৪ সালে হুথিদের হাতে সালেহ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার মধ্য দিয়ে ইয়েমেনে দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়। বর্তমানে দেশটি সানার হুথি প্রশাসন ও এডেনের সৌদি-সমর্থিত সরকারের নিয়ন্ত্রণে বিভক্ত।
ইসরায়েল–হুথি সংঘাত
হামাসের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর পর থেকে হুথিরা লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা এবং ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে আসছে। এর জবাবে ইসরায়েলও ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় একাধিক হামলা চালিয়েছে।
শনিবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, এই হামলা হুথিদের জন্য ‘চরম আঘাত’। তাঁর ভাষায়, ‘এটা কেবল শুরু।’
হুথিদের প্রতিক্রিয়া
প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পরপরই হুথি-পরিচালিত সংবাদ সংস্থা সাবা প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ আল-আতিফির বিবৃতি প্রকাশ করে। তিনি বলেন, হুথিরা ইসরায়েলের মোকাবিলায় প্রস্তুত।
তবে তাঁর ওই বিবৃতি হামলার আগে না পরে দেওয়া হয়েছিল, তা পরিষ্কার হয়নি। আতিফিকে হুথিদের প্রধান ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞ মনে করা হয়।






















































