ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ১০টি চুক্তি ও প্রকল্প বাতিলের খবর ‘ভিত্তিহীন ও অসত্য’ বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, “যে তালিকাটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরছে, এর বেশির ভাগ প্রকল্পেরই অস্তিত্ব নেই। কেবল গার্ডেনরিচ শিপইয়ার্ডের সঙ্গে টাগবোট কেনার চুক্তিটিই বাতিল করা হয়েছে।”
আজ মঙ্গলবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তৌহিদ হোসেন বলেন, “তালিকাটা কে দিয়েছেন জানি না। কেউ একজন দিয়েছেন, আরেকজন উপদেষ্টা সেটা রিটুইট করেছেন। আমি তাঁর মন্তব্য নিয়ে কিছু বলতে চাই না, তবে উনি সেটা না করলেই পারতেন।”
তিনি বলেন, “ত্রিপুরা–চট্টগ্রাম রেল সংযোগ, অভয়নগর–আখাউড়া রেলপথ সম্প্রসারণ, আশুগঞ্জ–আগরতলা করিডোর, ফেনী নদীর পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, কুশিয়ারা নদীর পানি বণ্টন প্রকল্প, সিলেট–শিলচর সংযোগ, কিংবা পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন সম্প্রসারণ—এসব নামে কোনো প্রকল্প নেই। কিছু প্রকল্প আছে, তবে নাম ও বিবরণ ভিন্ন।”
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “আশুগঞ্জ–আগরতলা করিডোর নামে কিছু নেই। আছে আশুগঞ্জ–সরাইল–ধরখার প্রকল্প। এর একটি প্যাকেজ বাতিল হয়েছে, বাকিটা চালু আছে।”
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, ফেনী নদীর পানি ব্যবস্থাপনা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বণ্টনের বিষয়ে কেবল সমঝোতা স্মারক আছে, কোনো প্রকল্প নয়। “বন্দরের ব্যবহারসংক্রান্ত চুক্তি বাতিল হয়নি, বরং চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের চুক্তি আগের মতোই চালু আছে,” বলেন তিনি।
‘ফারাক্কা বাঁধ সংক্রান্ত প্রকল্পে বাংলাদেশের আর্থিক সহযোগিতা প্রস্তাব’—এমন কোনো প্রকল্প নেই বলেও স্পষ্ট করেন তৌহিদ হোসেন।
ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল (মিরসরাই ও মোংলা) প্রকল্প বাতিল হয়নি, তবে পুনর্বিবেচনায় আছে বলে জানান তিনি।
আদানি পাওয়ারের সঙ্গে বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি নিয়েও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “এটা বাতিল হয়নি, পুনর্বিবেচনার আলোচনা চলছে। দেশের স্বার্থে যেটা ভালো হবে, সেটাই করা হবে।”
তৌহিদ হোসেন আরও বলেন, “যখন কোনো প্রকল্প বা চুক্তি দেশের জন্য লাভজনক নয় বলে মনে হয়, তখনই তা বাতিল বা পুনর্বিবেচনা করা হয়। কোনো কিছু বাতিল হলে সেটা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।”




















































