সেরা ১০০ সেন্ট্রালিয়ান বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

0
296

বাংলা একাডেমির একুশে বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে আজ সাংবাদিক, লেখক, কবি ও গীতিকার কাজী ইমরুল কবীর সুমন সম্পাদিত “সেরা ১০০ সেন্ট্রালিয়ান”/”Best 100 Centralians” বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদ, বাংলাদেশের সাবেক দ্রুততম মানবী এবং মতিঝিল সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট গার্লস হাই স্কুলের ১৯৬৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী রওশন আখতার ছবি বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন। এ সময় নেপালের কাঠমুন্ডু সাফ গেমস জয়ী বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ডিফেন্ডার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শারীরিক শিক্ষা বিভাগের উপ পরিচালক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্লু ও মতিঝিল সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট বয়েজ হাই স্কুলের ১৯৮৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু ফয়সাল আহমেদ, ১৯৮৩ ব্যাচের কবি শাহনাজ পারভীন মিতা, সৈয়দা শাহিনা হায়দার, হিসান খাতিব খান বাবু, মাকসুদ হোসেন, মাহিন খান রাজ সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পাদক ইমরুল সুমন জানান, মতিঝিল সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট হাই স্কুল/মতিঝিল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় সব তথ্য পাওয়া যাবে বইটিতে। সেই সঙ্গে এই স্কুলের বরেণ্য ১০০ গুণী প্রতিষ্ঠিত রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, লেখক, কবি, সাহিত্যিক, কন্ঠশিল্পী, প্রকোশলী, চিকিৎসক, কন্ঠশিল্পী, সংগঠক, খেলোয়াড়ের কথা পাওয়া যাবে এক মলাটে। এই স্কুলের প্রাক্তণ শিক্ষার্থীদের যারা বিভিন্ন পেশায় থেকেও সাহিত্য চর্চায় জড়িত তাদের প্রাধান্য দেয়া হয়েছে এই ১০০ জনের তালিকায়। পূর্ব পাকিস্তানে অনেক প্রত্যাশা নিয়ে ১৯৫৮ সালে সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট হাই স্কুলের ক্লাস শুরু। প্রতিষ্ঠার মাত্র ৪ বছরের মাথায় প্রবেশিকা পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় দু’টি স্থান দখল করে নেয় স্কুলটি। ১৯৬২ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের শেষ প্রবেশিকা পরীক্ষায় সারাদেশে মেধা তালিকায় প্রথম হন এই স্কুলেরই আব্দুল মঈন খান। এই তালিকায় সর্বশেষ ২০তম স্থান পান মো. আবুল বাশার। ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠা হওয়া স্কুলটির সেরা হওয়ার লড়াই ছিল শুরু থেকেই। সেটাকে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেন আব্দুল মঈণ খান ও মো. আবুল বাশার। বাংলাদেশ আমলে আশিষ কুমার কীর্ত্তনিয়া ১৯৮২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় এই স্কুল থেকে সারাদেশে সম্মিলিত মেধা তালিকায় প্রথম হন। ৬৭ বছরে এই স্কুল থেকে অনেক মেধাবী ছাত্র বের হয়েছেন। বিএনপি নেতা ড. আব্দুল মঈন খান পরে মন্ত্রী হয়েছেন, সংসদ সদস্য হন। এই স্কুলের প্রাক্তণ ছাত্রদের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মির্জা আব্বাস মন্ত্রী, ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র ও সংসদ সদস্য হয়েছেন। এই স্কুলের ছাত্রী যমুনা গ্রুপের এ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হন। বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম ঢাকা সিটি করপোরেশনের ডেপুটি মেয়র হয়েছেন। এই স্কুলের ড. খলিলুর রহমান বর্তমান অন্তর্বতীকালীন সরকারের সম্মানিত উপদেষ্টা। শফিকুল আলম প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস এর প্রেস সচিব। হলি ফ্যামেলি হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সাবেক প্রধান মেডিসিন বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. কানিজ মাওলা, এসএসসি’র মেধাতালিকায় স্ট্যান্ড করা এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের ধাত্রীবিদ্যা বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. আনোয়ারা বেগম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি এএফএম ইউসুফ হায়দার, বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশনের সভাপতি ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদ উইং কমান্ডার (অব.) মহিউদ্দিন আহমেদ, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদ ও দেশের দ্রুততম মানবী কোয়েল, কামরুন্নেসা লিপি, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদ নাজমুল আবেদীন ফাহিম, বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক ড. সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ, দুর্ণীতি দমন কমিশন (দুদক) এর সাবেক চেয়ারম্যান ড. মঈনুদ্দীন আব্দুল্লাহ, গণপূর্তের সাবেক চিফ ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ আল শাফি,
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম লিটন, নজরুল ইন্সটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ইকরাম আহমেদ লেনিন, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু, রন্ধণ বিশেষজ্ঞ কেকা ফেরদৌসী, বিশ্বকাপ ক্রিকেট তারকা এহসানুল হক সিজান, কন্ঠশিল্পী কাদেরী কিবরিয়া, লীনু বিল্লাহ, শিমুল ইউসুফ, সালমা সুলতানা, শাকিলা জাফর, শাহনূর রহমান লুমিন এই স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাদের কৃতিত্বের মাধ্যমেই স্কুলটির খ্যাতি সারাদেশে ছড়িয়েছে।

সাংবাদিক কাজী ইমরুল কবীর সুমন মতিঝিল সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট হাই স্কুলের আলোচিত, বরেন্য, মেধাবী, নিজ নিজ ক্ষেত্রে সাফল্য পাওয়া একশত প্রাক্তন শিক্ষার্থী
লেখককে এক মলাটে জড়ো করেছেন ‘সেরা ১০০ সেন্ট্রালিয়ান’(Best 100 Centralians) বইয়ের মাধ্যমে। তাদের লেখায় এদেশের কথাসাহিত্য নতুনত্ব পেয়েছে। ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ এর স্বাধীনতা সংগ্রাম, ২০২৪ এর জুলাই বিপ্লব এই স্কুলের শিক্ষার্থীদের লেখায় এই বইতে ঠাই পেয়েছে। স্কুলের মাঠ রক্ষার চলমান আন্দোলন নিয়েও আলোকপাত করা হয়েছে বইটিতে। নতুন প্রজন্মের কাছে স্কুলের সেরাদের পরিচিত করে দেয়ার জন্যই এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা বলে জানান ইমরুল সুমন।

Previous articleজাতিসংঘের মহাসচিবের বাংলাদেশ সফর শুরু ১৩ মার্চ
Next articleজেলেনস্কির প্রস্তাব: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here