অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে সার্ক, বিমসটেকসহ আঞ্চলিক ও উপ–আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্মগুলোতে সহযোগিতা জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। রবিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে দুই নেতার মধ্যে বৈঠকে এ প্রতিশ্রুতি আসে।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, তিন দিনের সফরে ঢাকায় আগমন ভুটান–বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন।
শনিবার ঢাকায় পৌঁছালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান অধ্যাপক ইউনূস। তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে তোবগে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান ও একটি চারা রোপণ করেন।
ভুটানের প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পৃথকভাবে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ও বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
বৈঠকে দুই নেতা বাণিজ্য, যোগাযোগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও মানুষে–মানুষে সম্পর্ক বাড়ানোর ওপর জোর দেন। প্রধান উপদেষ্টা স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছিল ভুটান। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় ভুটানের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
বাংলাদেশ বুয়েটে ভুটানি শিক্ষার্থীদের জন্য ১০টি ইঞ্জিনিয়ারিং আসন এবং বিকেএসপিতে একটি ক্রীড়া বিজ্ঞান ডিপ্লোমার আসন বরাদ্দের প্রস্তাব দেয়। ভুটানের বিশেষজ্ঞদের জন্য পেশাদার প্রশিক্ষণ কর্মসূচিরও প্রস্তাব করা হয়।
সরকার সফররত ভুটানি জনগণের জন্য সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকারে–সরকারে ওষুধ সরবরাহের প্রস্তাব করে। কুড়িগ্রামে ভুটানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনে অগ্রগতির কথাও বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।
চট্টগ্রাম থেকে বুড়িমারী পর্যন্ত পণ্য পরিবহনের পরীক্ষামূলক ট্রাফিক–ইন–ট্রানজিট কার্যক্রম সফল হওয়ায় দুই পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে।
উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বাংলাদেশ সফরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি সুবিধাজনক সময়ে অধ্যাপক ইউনূসকে ভুটান সফরের আমন্ত্রণ জানান।




















































