আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, “আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ, জাতীয় নির্বাচনের মতোই গণভোটও ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একই দিনে হবে।”
তিনি জানান, গণভোটে ভোটাররা জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলোর প্রতি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ মতামত জানাবেন।
ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কাজ এগিয়ে চলছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শিগগিরই প্রথম রায় দিতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গুমের মতো অপরাধের বিচারও শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
সংস্কার অগ্রগতির প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার নিজ উদ্যোগে বা সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডিজিটালাইজেশন ও দুর্নীতি প্রতিরোধে নানা সংস্কার সম্পন্ন করেছে।”
তিনি বলেন, এসব সংস্কার ভবিষ্যতের সুশাসনের ভিত্তি গড়ে দেবে এবং নির্বাচিত সরকার সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সেগুলো গ্রহণ করবে বলে আশা করেন।
রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “কমিশন নয় মাস ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ৩০টি সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। এটি একটি ঐতিহাসিক অর্জন।”
তিনি জানান, উপদেষ্টা পরিষদ আজ ‘জুলাই জাতীয় সনদ সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’ অনুমোদন করেছে, যা ইতিমধ্যে গেজেট প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পেলে সংসদ সদস্যদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে, যা ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন করবে।
অর্থনীতির অগ্রগতি প্রসঙ্গে ইউনূস বলেন, “অভ্যুত্থানের পর অর্থনীতি গভীর সংকটে ছিল। এখন রপ্তানি, বৈদেশিক বিনিয়োগ ও রিজার্ভসহ সব সূচকেই ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ আগের বছরের তুলনায় ১৯ শতাংশ বেড়েছে।”
তিনি আরও জানান, ডেনমার্কভিত্তিক মার্স গ্রুপের মালিকানাধীন এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্পে ৫৫০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে, যা দেশের ইতিহাসে ইউরোপের সর্বোচ্চ একক বিনিয়োগ।
ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার ও ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “দীর্ঘ দেড় যুগ পর জনগণ ভোট দিতে প্রস্তুত। আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর হবে বলে আমরা আশাবাদী।”
তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছে, তাদের ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আমাদের ঐক্য অটুট রাখতে হবে। ভিন্ন মত থাকলেও লক্ষ্য আমাদের এক—গণতন্ত্রের পুনর্গঠন।”






















































