হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আগুন লাগার দুই সপ্তাহের বেশি সময় পার হলেও পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর বেশিরভাগই এখনো পণ্য আনা বন্ধ রেখেছে। এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তৈরি পোশাক, ওষুধ ও অন্যান্য আমদানি–নির্ভর খাত।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, ‘ডিএইচএলসহ কয়েকটি কুরিয়ার কোম্পানি বাংলাদেশমুখী চালান বন্ধ রেখেছে। এতে বায়ারদের স্যাম্পল সময়মতো না আসায় ভবিষ্যৎ অর্ডার ঝুঁকিতে পড়ছে।’
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘স্যাম্পল না এলে নতুন অর্ডার ধরা সম্ভব নয়। এতে রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধাক্কা আসতে পারে।’
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত শেডগুলো এখনো তৈরি হয়নি। ফলে অনেক পণ্য খোলা আকাশের নিচে পড়ে থেকে বৃষ্টিতে ভিজছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দীর্ঘসূত্রতা ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে কার্গো ক্লিয়ারেন্স জট আরও বেড়েছে।
ডিএইচএল এক্সপ্রেস জানিয়েছে, বিমানবন্দর এখনো প্রস্তুত না থাকায় তারা ইনবাউন্ড পার্সেল গ্রহণ বন্ধ রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিন গড়ে আনে প্রায় আড়াই হাজার চালান, যার এক-তৃতীয়াংশ তৈরি পোশাক খাতের।
বিজিএমইএ জানিয়েছে, শুধু পোশাক খাতেই সরাসরি ক্ষতি প্রায় ১০০ কোটি টাকা। ওষুধ শিল্পে ক্ষতি হয়েছে অন্তত ১৬৫ কোটি টাকার বেশি।
বেসামরিক বিমান পরিবহন উপদেষ্টা এস কে বশিরউদ্দীন জানিয়েছেন, এখন থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আমদানিকৃত কার্গো সরিয়ে নিতে হবে, না হলে তা নিলামে তোলা বা ধ্বংস করা হতে পারে।
বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন রাগীব সামাদ বলেন, ‘আমরা ২৪ ঘণ্টা কাজ করছি। কিন্তু কুরিয়ার কোম্পানি ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা অনীহা দেখাচ্ছেন। এতে ব্যাকলগ আরও বাড়ছে।’
বিশ্লেষকেরা বলছেন, যদি দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়, তাহলে বাংলাদেশ রপ্তানিতে বড় ধাক্কা খেতে পারে।























































