জানুয়ারিতে পলিসি রেট কমানো হতে পারে: বাংলাদেশ ব্যাংক

0
118

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা | ৩১ অক্টোবর ২০২৫, শুক্রবার

আগামী জানুয়ারিতে ঘোষিত নতুন মুদ্রানীতিতে পলিসি রেট কমানো হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সফররত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পঞ্চম রিভিউ মিশনের সঙ্গে বৈঠকে এই তথ্য জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বৈঠকে আইএমএফ জানতে চায়, ব্যাংকগুলোকে স্বল্পমেয়াদে ঋণ দিতে ব্যবহৃত পলিসি রেট কবে কমানো হবে। জবাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এলেই পলিসি রেট কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের পলিসি রেট ১০ শতাংশ। ব্যাংকগুলোর ঋণের সুদের হার রয়েছে ১৩ থেকে ১৪ শতাংশের মধ্যে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, “মূল্যস্ফীতি ইতোমধ্যে কিছুটা কমেছে। জানুয়ারির বোরো মৌসুমে ধান উঠলে আরও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাই জানুয়ারির নতুন মুদ্রানীতিতে পলিসি রেট সমন্বয়ের সম্ভাবনা আছে।”

বৈঠকে ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে আরও দুই ডেপুটি গভর্নরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আইএমএফ দলের নেতৃত্বে ছিলেন ক্রিস পাপাজর্জিউ।

ডলার কেনা নিয়ে প্রশ্ন
গত কয়েক মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো থেকে দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি কিনেছে। এ নিয়ে আইএমএফ প্রশ্ন তোলে—“একদিকে উচ্চ পলিসি রেট, অন্যদিকে ডলার ক্রয়ে বাজারে তারল্য ছাড়ার মধ্যে কী যুক্তি?”

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংকগুলোতে অতিরিক্ত ডলার জমে রেট পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল, তাই বাজার স্থিতিশীল রাখতে হস্তক্ষেপ করা হয়। এখন আর ডলার কেনা হচ্ছে না।

খেলাপি ঋণ বেড়েছে, তবে স্বচ্ছতা বেড়েছে
দেশে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির কারণ জানতে চায় আইএমএফ। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, আগে অনেক অনাদায়ী ঋণ প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হতো না, এখন সেগুলোও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এতে প্রকৃত চিত্র প্রকাশ পাচ্ছে।

আইএমএফ এই স্বচ্ছতা বৃদ্ধির পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে।

বৈঠকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা, তারল্য পরিস্থিতি, পুনর্মূলধন উদ্যোগ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও প্রভিশন ঘাটতি কমানোর পদক্ষেপসহ জলবায়ু অর্থায়ন ও সবুজ বিনিয়োগ নীতিও পর্যালোচনা করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, “আইএমএফের এই সফর নিয়মিত পর্যালোচনার অংশ। তারা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সুদের হার, রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা এবং খেলাপি ঋণ কমানোর অগ্রগতি যাচাই করছে।”

এর আগের দিন আইএমএফ বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছিল। তবে রাজস্ব আহরণে ঘাটতি এবং ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত নিয়ে উদ্বেগ জানায় সংস্থাটি।

Previous articleডিসেম্বরে নির্বাচনের তফসিল, ভোট রমজানের আগেই: ইসি আনোয়ারুল
Next articleসমবায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গড়ে উঠতে পারে আত্মনির্ভর বাংলাদেশ: প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here