ঢাকা: ভারতের পররাষ্ট্রসচিবের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে “সম্পূর্ণ অযৌক্তিক” বলেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন একান্তই দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়, এতে অন্য দেশের মন্তব্য করা সমীচীন নয়।
বুধবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।
ভারতের পররাষ্ট্রসচিব সম্প্রতি বলেন, যদি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক হয়, তাহলে বাংলাদেশে যে সরকারই আসুক না কেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে। এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমি এটিকে তাদের বিষয় বলে মনে করি না। এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার— এমন মন্তব্য একেবারেই অযৌক্তিক।”
ব্রিফিংয়ে তিনি রাষ্ট্রপতির পাঠানো বলে দাবি করা চিঠি, তুরস্কের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা, বিদেশে ভিসা জটিলতা, এমনকি কূটনীতিকদের এক সাবেক মন্ত্রীর বাসায় সাক্ষাৎ নিয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন।
রাষ্ট্রপতির চিঠি নিয়ে তিনি বলেন, “তিনি (রাষ্ট্রপতি) শুধু নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না।”
তুরস্কের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “তুরস্কের উল্লেখযোগ্য সামরিক প্রযুক্তি আছে। আমাদের অনেক দেশের সঙ্গে এমন সহযোগিতা রয়েছে, সেটি বাড়ানোই স্বাভাবিক।”
ভিসা জটিলতা প্রসঙ্গে তিনি জানান, কিছু দেশে শিক্ষার্থী ও শ্রমিকদের ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলেন, প্রায় ৮০ হাজার বাংলাদেশি জার্মানিতে পড়াশোনার জন্য আবেদন করেছে, কিন্তু দেশটি বছরে মাত্র ২ হাজার আবেদন প্রক্রিয়া করে।
বাংলাদেশ সরকার জার্মানির কাছে শিক্ষার্থী কোটার সংখ্যা ৯ হাজারে উন্নীত করার অনুরোধ জানিয়েছে বলে জানান তিনি।
তৌহিদ হোসেন বলেন, “জাল নথি ও অনিয়মিত অভিবাসনের কারণে আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে প্রকৃত আবেদনকারীরাও সমস্যায় পড়ছেন। প্রথমেই আমাদের নিজেদের ভেতরের ত্রুটি ঠিক করতে হবে।”






















































