নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বিস্তারিত রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে এই রোডম্যাপ প্রকাশ করেন ইসি সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
ঘোষিত রোডম্যাপে মোট ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ, ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা, রাজনৈতিক দল ও দেশীয় পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন চূড়ান্ত করা।
ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হবে অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ। এই সংলাপে অংশ নেবেন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সুশীল সমাজ, নারী প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধি। সংলাপের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক করার চেষ্টা করা হবে।
রোডম্যাপে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচন সংক্রান্ত প্রধান পাঁচটি আইন—গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২, সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধি-২০২৫, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা (সংশোধন), নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন-১৯৯১ এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন-২০০৯—এর সংশোধন ও প্রয়োগ ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোডম্যাপের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো হলো:
ভোটার তালিকার চূড়ান্তকরণ এবং সংসদীয় আসনের সীমানা চূড়ান্তকরণ।
প্রবাসী বাংলাদেশি ও কারাবন্দিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা।
নির্বাচনী আচরণবিধি ও প্রার্থীদের আচরণ সংক্রান্ত নীতিমালা নির্ধারণ।
দেশীয় পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন এবং পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা চূড়ান্তকরণ।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, রোডম্যাপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও অংশগ্রহণমূলক হবে। এছাড়া, নির্বাচনী প্রস্তুতির জন্য কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, নির্বাচনী উপকরণ বিতরণ ও ভোটগ্রহণ ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সময়মতো নেওয়া হবে।
রোডম্যাপ প্রকাশের মধ্য দিয়ে ইসি দেশের ভোটার ও রাজনৈতিক দলগুলোকে আসন্ন নির্বাচন সফলভাবে আয়োজনের জন্য প্রস্তুতি শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে।























































