নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ আজ শনিবার (৩ মে ২০২৫) অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোর থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হন। মহাসমাবেশে চার দফা দাবি তুলে ধরে বক্তব্য দিয়েছেন সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।
প্রধান দাবি
হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে চারটি মূল দাবি তুলে ধরা হয়েছে।
- সংগঠনের নেতাদের নামে থাকা ৩০০টির বেশি মামলা প্রত্যাহার।
- ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর, ২০২১ সালের মার্চ এবং ২০২৪ সালের সহিংস ঘটনার বিচার।
- নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন বাতিল।
- সংবিধানের প্রস্তাবনায় আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনর্বহাল এবং ফিলিস্তিন ও ভারতে মুসলিম নিপীড়নের প্রতিবাদ।
সমাবেশের পরিস্থিতি
সকাল থেকেই শাহবাগ ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মাদ্রাসার ছাত্র ও হেফাজতের সমর্থকদের উপস্থিতি ঘিরে পুরো এলাকা জনাকীর্ণ হয়ে ওঠে।
সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতা ও ইসলামি চিন্তাবিদরা। জৌনপুরের সাইয়্যেদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বলেন, “অসংখ্য আলেম-ওলামাকে কারাগারে রাখা হয়েছে। তাদের মুক্তি ছাড়া কোনো সংস্কার বা নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।”
হেফাজতের কেন্দ্রীয় সদস্য মাহমুদ বিন হোসাইন বলেন, “পবিত্র কোরআনবিরোধী যেকোনো কর্মকাণ্ড রুখতে সংগঠন সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত।”
সমাবেশের অংশগ্রহণ
সমাবেশে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা নেতা-কর্মীদের ছোট ছোট মিছিল দেখা গেছে। মিছিল থেকে অন্তর্বর্তী সরকার ও নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়।
প্রশাসনের ব্যবস্থা
সমাবেশ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি ছিল দৃশ্যমান। সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে শাহবাগসহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
প্রাসঙ্গিকতা
হেফাজতে ইসলামের এ মহাসমাবেশ এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নির্বাচনী উত্তেজনা বিরাজ করছে। তাদের চার দফা দাবির বাস্তবায়ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখযোগ্য দাবি ও বক্তব্য:
- মামলার নিষ্পত্তি এবং আলেম-ওলামাদের মুক্তি।
- নারীবিষয়ক সংস্কার বাতিলের মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতি রক্ষার আহ্বান।
- সংবিধান সংশোধনসহ মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ।
পরবর্তী পদক্ষেপ:
হেফাজতের নেতারা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। সমাবেশের পরও বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ও বিতর্ক চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।






















































