যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কযুদ্ধকে সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

0
209

রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) কার্যালয়ে আয়োজিত সেমিনারে অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপের বিষয়টিকে ভয় না পেয়ে সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। শনিবার (১৭ মে) ‘যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক নীতি ও বাংলাদেশের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি। ডিসিসিআই ও বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড) যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।

শুল্ক নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপের প্রভাব আমাদের প্রতিযোগীদের ওপরও পড়ছে। ফলে তুলনামূলক প্রতিযোগিতায় আমরা খুব বেশি পিছিয়ে যাচ্ছি না। আমাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই।”

তিনি আরও বলেন, “শুল্কযুদ্ধকে আমাদের সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আমাদের রপ্তানি বহুমুখীকরণে মনোযোগ দিতে হবে।”

রাজনৈতিক প্রভাব ও ‘বিষাক্ত শুল্ক চিকিৎসা’
দেবপ্রিয় তাঁর প্রবন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ নীতিকে ‘বিষাক্ত শুল্ক চিকিৎসা’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, “এই নীতির পেছনে অর্থনীতির চেয়ে রাজনীতি বেশি জড়িত। তবে এই নীতি সফল হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।”

তিনি আরও সতর্ক করেন, “আমেরিকাকে খুশি করতে গিয়ে আমাদের যেন অন্য কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট না হয়।”

সংস্কার ও বেসরকারি খাতের ভূমিকা
দেবপ্রিয় বলেন, “দেশের বেসরকারি খাতকে সংস্কার প্রক্রিয়ায় আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে।” তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্যোগ সঠিক পথে রয়েছে, তবে কার্যকর বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
জাতীয় নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হলে, নতুন সরকারকে নবম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়নে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেন দেবপ্রিয়। তিনি বলেন, “সংস্কার ত্বরান্বিত করা ও রপ্তানি বহুমুখীকরণে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।”

এই সেমিনারে অংশ নেওয়া বিভিন্ন বক্তারাও যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির প্রভাব মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে আলোচনা করেন।

Previous articleগাজার ১০ লাখ শরণার্থীকে লিবিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের
Next articleমাইক্রোক্রেডিটই ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যৎ: মুহাম্মদ ইউনূস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here