রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়ন বণ্টন এখন কার্যত ‘ব্যবসা’তে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান এবং সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)–এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।
আজ সোমবার ঢাকার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজে (বিআইআইএসএস) দায়রা আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে মনোনয়ন এখন বাস্তবে ব্যবসার রূপ নিয়েছে। কিছু ব্যক্তি-বৃত্ত আছে, যাদের রাজনৈতিক দল বলা যায় না—তারা মূলত ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট। তারা বিভিন্নভাবে টাকা সংগ্রহ করে মনোনয়ন বাণিজ্যে ব্যয় করছে।’
তিনি আরও বলেন, দলগুলো তৃণমূলের মতামতকে উপেক্ষা করে কেন্দ্রীয়ভাবে মনোনয়ন দেয়, আর সেখানে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন এখন ‘গোপন কিছু নয়’। ‘মনোনয়ন পাওয়া এখন যেন ব্যক্তিগত বিনিয়োগের অংশে পরিণত হয়েছে,’ মন্তব্য করেন তিনি।
মনোনয়ন বাণিজ্যের ফলে সৎ, সক্ষম ও জনস্বার্থে নিবেদিত মানুষ রাজনীতির বাইরে থেকে যাচ্ছেন বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বদিউল আলম। তাঁর মতে, ‘এতে দুর্বৃত্তায়ন বাড়ছে এবং অযোগ্যদের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ সহজ হচ্ছে, যা রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক।’
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের হলফনামায় আয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিও এই মনোনয়ন বাণিজ্যের প্রতিফলন। ‘অনেক প্রার্থীর সম্পদ নির্বাচনের আগে–পরে কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার শতাংশ বেড়ে যায়—এটাই ক্ষমতা ও অর্থের যোগসাজশের স্পষ্ট চিত্র।’
নির্বাচন সংস্কার নিয়ে প্রস্তাব তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোতে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে হবে। তৃণমূলের ভোটে প্যানেল তৈরি করে তার ভিত্তিতে মনোনয়ন দেওয়াকে বাধ্যতামূলক করার পরামর্শ দেন তিনি। দলগুলোকে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আনা, দলীয় তহবিল স্বচ্ছ করা এবং মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তাও উল্লেখ করেন।
গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, জামায়াতে ইসলামের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট আহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ।























































