যুদ্ধ থামাতে ইউক্রেন–যুক্তরাষ্ট্রের ‘পরিমার্জিত’ শান্তি পরিকল্পনা

0
151

রাশিয়ার সঙ্গে দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন একটি ‘পরিমার্জিত শান্তি কাঠামো’র খসড়া তৈরি করেছে। রবিবার জেনেভায় বৈঠকের পর দুই দেশ যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়। তবে পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, সুইজারল্যান্ডে আলোচনার পর প্রতিনিধি দল দেশে ফিরছে। তারা দেশে ফিরে পরিকল্পনার অগ্রগতি সম্পর্কে জানাবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘রাশিয়া–ইউক্রেন শান্তি আলোচনায় হয়তো বড় কিছু ঘটতে পারে।’

মার্কিন প্রস্তাবে চাপে কিয়েভ

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ করে ২৮ দফার একটি শান্তি পরিকল্পনা দেয়, যা ইউক্রেন ও ইউরোপীয় দেশগুলোকে বিস্মিত করে। এতে ইউক্রেনকে আরও কিছু ভূখণ্ড ছাড় দেওয়া, সামরিক সক্ষমতা কমানো এবং ন্যাটোতে যোগদানের আশা ত্যাগ করার প্রস্তাব ছিল—যা কিয়েভ দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাখ্যান করে এসেছে।

জেলেনস্কি দুর্নীতির কেলেঙ্কারি ও যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ অগ্রগতি—দুই চাপের মুখে রয়েছেন। জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়—এমন শর্তে কোনো চুক্তি তাঁর জন্য রাজনৈতিকভাবে কঠিন হবে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।

রবিবারের আলোচনার পর সংশোধিত পরিকল্পনায় নিরাপত্তা নিশ্চয়তা বা পুনর্গঠনের অর্থায়ন–সংক্রান্ত জটিল বিষয়গুলো কীভাবে সমাধান করা হবে—তা প্রকাশ করা হয়নি।

‘আমরা আপস খুঁজছি’—জেলেনস্কি

সুইডেনে ইউক্রেনের মিত্রদের এক বৈঠকে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রসহ মিত্রদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এমন সব আপস খুঁজছি, যা আমাদের দুর্বল নয়, বরং শক্তিশালী করবে।’

তিনি বলেন, রাশিয়ার ওপর আরোপিত সম্পদ জব্দের অর্থ ইউক্রেন পুনর্গঠনে ব্যবহার করা জরুরি।

ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের পর যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি কিয়েভের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থন থেকে সরে এসে নীতিতে পরিবর্তন এনেছেন। সূত্রগুলো জানিয়েছে, সংবেদনশীল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে জেলেনস্কি দ্রুতই যুক্তরাষ্ট্র সফরে যেতে পারেন।

যুদ্ধক্ষেত্রে উত্তেজনা অব্যাহত

রবিবার ইউক্রেনের খারকিভে রুশ ড্রোন হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকাজ চলছে। রেড ক্রসের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘বাচ্চারা বেঁচে গেছে—এটাই সান্ত্বনা।’

অন্যদিকে রাশিয়া জানিয়েছে, মস্কো অভিমুখী ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এতে রাজধানীর কয়েকটি বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে। মস্কোর কাছে ড্রোন হামলায় হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েন।

ইউরোপের পাল্টা প্রস্তাব

ইউরোপীয় দেশগুলো জানিয়েছে, মার্কিন পরিকল্পনা তৈরিতে তাদের যুক্ত করা হয়নি। তারা একটি পৃথক প্রস্তাব দিয়েছে—যেখানে বর্তমান রণক্ষেত্রে যুদ্ধ বন্ধ রাখা এবং ভূখণ্ড–সংক্রান্ত আলোচনাকে ভবিষ্যতের জন্য রেখে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ন্যাটোর মতো নিরাপত্তা নিশ্চয়তার প্রস্তাবও আছে।

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ বলেছেন, জেনেভার আলোচনা ‘অন্তর্বর্তীকালীন অগ্রগতি’। তবে, ‘ইউক্রেনে শান্তি রাতারাতি আসবে না,’ মন্তব্য তাঁর।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, লক্ষ্য একটাই—‘ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি।’ পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক বলেন, কোনো চুক্তিতেই ইউক্রেন বা ইউরোপকে দুর্বল করা যাবে না।

Previous articleমনোনয়ন এখন এক ধরনের ব্যবসা: বদিউল আলম মজুমদার
Next articleসরদার মোঃ কেরামত আলী : এক সফল ও দক্ষ জনসেবকের প্রতিকৃতি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here