মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জরুরি ভিত্তিতে স্পট মার্কেট থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী । একই সঙ্গে জ্বালানি আমদানির মূল্য দ্রুত পরিশোধে প্রস্তুত থাকতে কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মার্চ মাসে কমপক্ষে চার কার্গো এলএনজি স্পট মার্কেট থেকে কেনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর আগে চলতি মাসে স্পট মার্কেট থেকে কেনার কোনো পরিকল্পনা ছিল না।
সরকারি সূত্রগুলো জানায়, হুরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়া এবং কাতারের উৎপাদন পরিস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি সরবরাহে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তবে ওমান থেকে নির্ধারিত দুই কার্গো সরবরাহের নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে এবং বাড়তি আরও দুই কার্গো দেওয়ার আশ্বাস মিলেছে। পুরো মাসের চাহিদা মেটাতে আট কার্গো এলএনজি প্রয়োজন।
একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর পেট্রোবাংলা দ্রুত দুই কার্গোর টেন্ডার আহ্বান করবে। বাকি দুই কার্গোর টেন্ডার কিছুদিন পর ডাকা হবে।
গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৯০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে ৯০০ থেকে ৯৮০ এমএমসিএফডি আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে। বছরে মোট ১১০ থেকে ১১৫ কার্গো এলএনজি আমদানি করতে হয়, যার বড় অংশ কাতার ও ওমানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায়।
জ্বালানি তেলের মজুত
(বিপিসি) জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের কাছে দুই লাখ টনের বেশি ডিজেল মজুত আছে, যা দিয়ে প্রায় ১৪ দিন চাহিদা মেটানো সম্ভব। এ ছাড়া ২১ হাজার ৭০৫ টন পেট্রোল, ৩৪ হাজার ১৩৩ টন অকটেন এবং ২০ দিনের চাহিদার সমপরিমাণ জেট ফুয়েল মজুত রয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়া, চীন ও সৌদি আরবসহ বিকল্প উৎস থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়ে আলোচনা চলছে। ভারত থেকেও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
এলপিজি আমদানি
বেসরকারি খাতে মার্চ মাসে প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার টন এলপিজি দেশে আসার কথা রয়েছে। তবে হুরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতির কারণে সরবরাহে বিলম্বের শঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় বিকল্প উৎস থেকে আমদানির পরিকল্পনা নিতে সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।




















































