ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উষ্ণ অভ্যর্থনা আর লাল গালিচায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে স্বাগত জানানো—এই দু’টি দৃশ্যেই দারুণ অস্বস্তিতে পড়েছে ওয়াশিংটন।
ইউরোপকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া মুহূর্তে পুতিনের দিল্লি সফর শুধু কূটনৈতিক উষ্ণতা নয়—এটি যুক্তরাষ্ট্রের চোখে এক ধরনের কৌশলগত সতর্ক সংকেত।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশ্ন: ভারত কি এখনও নির্ভরযোগ্য?
দুই দশক ধরে ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে ভারত ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম স্তম্ভ। শক্তিশালী ও প্রভাবশালী ভারতের ওপর নির্ভর করেই চীনের গতিপথ সামলাতে চাইছিল ওয়াশিংটন।
রাশিয়ার সঙ্গে নয়াদিল্লির ঘনিষ্ঠতা অনেকদিনই ‘ঐতিহাসিক সম্পর্ক’ বলে মেনে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধ, রাশিয়ার আগ্রাসী ভাষা আর চীন–রাশিয়া সখ্যের বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রের সহনশীলতার জায়গাটা দ্রুত সঙ্কুচিত হচ্ছে।
মোদির বার্তা: ‘স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি’
পুতিন সফরকে ভারত দেখাচ্ছে তার ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের’ প্রতীক হিসেবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের চোখে এটি অস্পষ্টতা—এমন এক অবস্থান, যেখানে সংকট মুহূর্তে ভারত পাশে দাঁড়াবে কি না, নিশ্চিত নয়।
ট্রাম্প প্রশাসন আরও স্পষ্ট ভাষায় বলছে—মিত্রদের পক্ষ নিতে হবে, দ্বিধা নয়।
দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত
ওয়াশিংটন মনে করছে, রাশিয়াকে ঠেকাতে এবং ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল ধরে রাখতে শুধু ভারতের ওপর ভরসা করা আর নিরাপদ নয়।
ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে গভীরতর সম্পৃক্ততা, শ্রীলঙ্কা–নেপালকে নতুনভাবে গুরুত্ব দেওয়া, এমনকি পাকিস্তানের প্রতিও নজর ফেরানো—এসব এখন কৌশলগত বাস্তবতা।
ভারতের জন্য ঝুঁকি কোথায়?
রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা ভারতের কাছে বাস্তবসম্মত মনে হলেও পশ্চিমা জোটের আস্থা কমছে।
পুতিনকে এমন সময় স্বাগত জানানো, যখন ইউরোপকে হুমকি দিচ্ছেন তিনি—ওই আস্থার ঘাটতিটাই সামনে নিয়ে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রও তাই বিকল্প অংশীদার বাড়ানোর পথে যাচ্ছে—যাতে ভারতই আর একমাত্র কেন্দ্রবিন্দু না থাকে।
তবুও সম্পর্ক ভাঙছে না
ইন্দো-প্যাসিফিকে চীনের সম্প্রসারণ ঠেকাতে ভারত–যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা অপরিহার্যই থাকবে।
তবে সম্পর্ক আর আগের মতো নিঃশর্ত নয়—বরং হবে ‘বিশ্বাসযোগ্যতা’ ও ‘সমষ্টিগত নিরাপত্তায় প্রতিশ্রুতি’ দিয়ে মাপা সম্পর্ক।




















































