বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত আর্থিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ পাকিস্তানের কাছে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার আগের ৪.৫২ বিলিয়ন ডলার পাওনা পরিশোধের দাবি করেছে।
আজ (বৃহস্পতিবার) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব আমনা বালুচ এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব জসিম উদ্দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ দাবি জানানো হয়।
পাওনার বিবরণ
- ৪.৫২ বিলিয়ন ডলার: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ছিল।
- এর মধ্যে ১৯৭০ সালের ভোলা সাইক্লোনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দেওয়া ২০০ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক সাহায্য অন্তর্ভুক্ত।
বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়
- মুক্তিযুদ্ধের সময়ের নৃশংসতার জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়া।
- অমীমাংসিত আর্থিক দায়বদ্ধতা মেটানো।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব জসিম উদ্দিন বৈঠক শেষে বলেন:
“আমরা ঐতিহাসিক অমীমাংসিত বিষয়গুলো উত্থাপন করেছি। এগুলো সমাধান না হলে আমাদের সম্পর্ক দৃঢ় হওয়া সম্ভব নয়।”
পাকিস্তানের প্রতিশ্রুতি:
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৫ বছর পর আলোচনা শুরুর এই প্রক্রিয়ায় তারা বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করবে।
ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
- পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ২৭-২৮ এপ্রিল বাংলাদেশ সফর করবেন।
- দুই দেশের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য ঘটনা:
- ২০১০ সালের পর এই প্রথমবার বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে বৈঠক হলো।
- আমনা বালুচ পৃথকভাবে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন।
সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ
এই বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে। তবে, অমীমাংসিত আর্থিক ও ঐতিহাসিক ইস্যুগুলো সমাধান না হলে সম্পর্ক জোরদার করা কঠিন হবে।




















































