নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা | ৭ নভেম্বর ২০২৫, শুক্রবার সন্ধ্যা
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশের নির্বাচনী বাস্তবতায় অন্তত ১০ থেকে ২০ কোটি টাকা না থাকলে প্রার্থী হওয়া কঠিন। এ অবস্থায় কালো টাকা থাকা ব্যক্তিরাই সুযোগ পাচ্ছেন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার।
আজ শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানের শিরোনাম ছিল ‘নভেম্বর থেকে জুলাই: বিপ্লব থেকে বিপ্লবে’।
আসিফ মাহমুদ বলেন, “এই বাস্তবতায় যাদের কাছে কালো টাকা আছে, তারাই নির্বাচন করতে পারছে। কেউ যদি অন্যের কাছ থেকে টাকা নেয়, নির্বাচিত হয়ে তাকে তার স্বার্থই রক্ষা করতে হয়। তাই ভাবতে হয়—নির্বাচন করব কি না, করলেও কিভাবে করব? মানুষ কি টাকা ছাড়া ভোট দেবে?”
পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গত ৫০ বছরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো রাজনৈতিক দল নতুন বয়ান হাজির করতে পারেনি। এখনো আমরা জিয়াউর রহমানের তৈরি ডিসকোর্সের ওপর দাঁড়িয়ে আছি। এজন্য সার্ক এখনো প্রাসঙ্গিক।”
তিনি আরও বলেন, “১৯৭৫ সালের পর থেকেই বাংলাদেশ রাষ্ট্র নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়, তখনই আমাদের জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়।”
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাকে স্মরণ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, “সেদিন শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আমাদের রাজনৈতিক নেতারা স্ট্যাবলিশমেন্টের কোলের ওপর গিয়ে উঠলেন। আমরা তখন ২৫–২৬ বছরের তরুণ ছিলাম, কিন্তু অগ্রজরা দায়িত্ব দিয়ে গেলেন স্ট্যাবলিশমেন্টকে।”
গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সময় তরুণদের প্রস্তাব উপেক্ষা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, “আমি বলেছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বসে আলোচনা করা হোক, কিন্তু আমাদের ক্যান্টনমেন্টে যেতে বলা হয়েছিল। আমরা রাজি হইনি, পরে বঙ্গভবনে বৈঠক হয়।”
গণঅভ্যুত্থানের পর করণীয় বিষয়ে তিনি বলেন, “সংস্কার, বিচার ও গণতান্ত্রিক রূপান্তর—এই তিনটি বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু যারা সংস্কারের কথা বলেছিলেন, তারাই পরে সংস্কারবিরোধী রাজনীতিতে ঢুকে পড়েছেন।”
আলোচনায় কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেন, “৫ থেকে ৮ আগস্টের মধ্যবর্তী সময়েই বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক যাত্রাপথ নির্ধারণ করা যেত, কিন্তু আমরা সেই সুযোগ হারিয়েছি। তরুণ প্রজন্ম এই ব্যর্থতার দায় এড়াতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, “গণসার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি। ঢাকা-কেন্দ্রিক রাষ্ট্র কাঠামো ভেঙে জেলা ভিত্তিক অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।”
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে, এতে আমি নিশ্চিত। বিএনপি ও জামায়াতের বিভিন্ন কার্যক্রম থেকেই তা স্পষ্ট। তবে নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।”






















































