নিজস্ব প্রতিবেদক
কুমিল্লা | ২৩ জুলাই ২০২৫
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘বাংলাদেশে সবার ঠাঁই হলেও—আওয়ামী লীগের ঠাঁই হবে না।’ বুধবার (২৩ জুলাই) বিকেলে কুমিল্লা টাউন হল প্রাঙ্গণে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’র অংশ হিসেবে আয়োজিত ৪৪তম জেলা সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির সময় যখন আগুনে প্রাণ ঝরছে, তখন আওয়ামী লীগ এসেছে আলু পোড়া খেতে। আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই দুঃশাসনের প্রতীক আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশের চার কোটি সন্তানকে হত্যা করা হবে। তাই আপনাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। দল-মত নির্বিশেষে এ দলকে আর কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না।’
মাইলস্টোনের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ধ্বজভঙ্গ বিমান কেন চলবে—তা সরকারকে ব্যাখ্যা দিতে হবে। বিভ্রান্তিকর লাশের সংখ্যা নয়, সত্য প্রকাশ করতে হবে।’
হাসনাত কুমিল্লা প্রসঙ্গে বলেন, ‘সরকারি বরাদ্দ ছাড়াই এই জেলার মানুষ নিজেদের টাকায় উন্নয়ন করেছে। শাসনগাছা ফ্লাইওভারও কোনো কাজে আসছে না, শহরে যানজট লেগেই থাকে। দুই কিলোমিটার রাস্তা ঠিক হয়নি। সরকার যদি কুমিল্লায় উন্নয়ন না করে, আমরা জনগণের টাকায় উন্নয়ন শুরু করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে দুইটা বাস চলতে পারে না, অথচ এটিই নাকি জাতীয় মহাসড়ক! কুমিল্লাকে অবহেলার যে নিদর্শন সরকার রেখে যাচ্ছে, তা ঐতিহাসিক।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে হাসনাত বলেন, ‘হাসিনা বলেছিলেন কুমিল্লা নামে বিভাগ হবে না। আমরা বলছি—কুমিল্লা নামেই বিভাগ হবে। কুমিল্লার ছেলেরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এই জুলাইয়ে প্রথম প্রতিরোধ গড়েছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘ফেরাউনের জন্ম হয়েছে ঢাকায়, আর মুসার জন্ম হয়েছে কুমিল্লায়।’
সমাবেশে অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দ
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন এনসিপি কুমিল্লা মহানগরের আহ্বায়ক সিরাজুল হক। এসময় উপস্থিত ছিলেন—দলের সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব নাহিদা সারোয়ার নিপা, হান্নান মাসুদ, জয়নাল আবেদীন শিশির, আলাউদ্দিন মোহাম্মদ, যুব শক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নেতা নাভিদ নওরোজ শাহ ও হাফসা জাহান।
উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, ‘শুধু সিস্টেমের গাফিলতির জন্য আমরা প্রতিনিয়ত প্রাণ দিচ্ছি। এই সিস্টেম বদলাতে হবে। আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’
সমাবেশের শুরুতে মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, ‘রানা প্লাজা, তাজরীন ফ্যাশনের মতো প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। যে বিমান দেশের নিরাপত্তা দেওয়ার কথা, সেটি যেন আর প্রাণ না নেয়।’























































