জরুরি অবস্থা ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে ঐকমত্য হয়নি
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ❐
নির্বাচনকালীন সময়ে একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের জন্য নতুন রূপরেখা উপস্থাপন করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চলমান সংলাপের একাদশ দিনে এই প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
তবে এ নিয়ে এখনও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পূর্ণ ঐকমত্য গড়ে ওঠেনি। আলোচনায় উঠে আসে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু—জরুরি অবস্থা জারির বিধান ও প্রধান বিচারপতির নিয়োগ প্রক্রিয়া—তবে সেসব ক্ষেত্রেও স্পষ্ট ঐকমত্য পাওয়া যায়নি।
🏛️ তত্ত্বাবধায়ক সরকার: নতুন গঠন প্রস্তাব
নতুন প্রস্তাবে বলা হয়, সংসদ যদি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট হয়, তাহলে উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের নেতা, স্পিকার, বিরোধী দলের নেতা এবং রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি সর্বদলীয় কমিটি গঠন করা হবে।
এই কমিটি সংসদ বিলুপ্ত হওয়ার ৯০ দিন আগে গঠন করতে হবে এবং তারাই প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন করবেন।
কমিটির সভাপতি হবেন উচ্চকক্ষের বয়োজ্যেষ্ঠ চেয়ারম্যান বা স্পিকার। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে নাম আহ্বান করবেন। প্রার্থীদের মধ্য থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে একজনকে নির্বাচন করে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ পাঠানো হবে। রাষ্ট্রপতি তাকে নিয়োগ দেবেন।
এরপর প্রধান উপদেষ্টা সর্বোচ্চ ১৫ জন নির্দলীয় ব্যক্তিকে উপদেষ্টা হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবেন এবং রাষ্ট্রপতি তাদের নিয়োগ দেবেন।
যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ মত না পাওয়া যায়, তাহলে উচ্চকক্ষে ‘র্যাঙ্কড চয়েস ভোটিং’-এর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই সরকার নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে।
⚖️ জরুরি অবস্থা জারির বিধান
সংলাপে জরুরি অবস্থা জারির সংবিধানিক বিধান পরিবর্তনের প্রস্তাবও আলোচিত হয়।
ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব অনুসারে, প্রধানমন্ত্রী নয়, মন্ত্রিসভার অনুমোদনে রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারবেন। তবে ‘অভ্যন্তরীণ গোলযোগের কারণে’ জরুরি অবস্থা জারির বিধানটি বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়।
এছাড়া জরুরি অবস্থার সময় জীবনের অধিকার এবং নির্যাতন বা অমানবিক আচরণ থেকে সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার স্থগিত করা যাবে না।
এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তারা রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের আগে একটি সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটির পরামর্শ গ্রহণের পক্ষে মত দেয়।
👨⚖️ প্রধান বিচারপতি নিয়োগ প্রসঙ্গে
আলোচনায় প্রধান বিচারপতি নিয়োগের নতুন প্রস্তাবও আনা হয়।
ঐকমত্য কমিশনের সংশোধিত প্রস্তাবে বলা হয়, আপিল বিভাগের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ বিচারক যদি অসদাচরণ বা অযোগ্যতার তদন্তের মুখোমুখি না হন, তাহলে তাকেই রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেবেন।
তবে কিছু রাজনৈতিক দল এই প্রস্তাব পরিবর্তন করে জ্যেষ্ঠতম দুই বিচারকের মধ্য থেকে নিয়োগের পক্ষ নেয়। ফলে এ বিষয়েও ঐকমত্য হয়নি।
🗣️ আলী রীয়াজ: আরও সময় দরকার
আলোচনা শেষে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ সাংবাদিকদের বলেন,
“প্রতিটি রাজনৈতিক দল একটি গ্রহণযোগ্য ও ত্রুটিমুক্ত ব্যবস্থা চায়। আলোচনাগুলো খুবই গঠনমূলক হচ্ছে। তবে কিছু বিষয়ে আরও সময় নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন।”
👥 অংশগ্রহণকারী ও পরবর্তী সময়সূচি
ঐ দিন আলোচনায় অংশ নেন:
- বদিউল আলম মজুমদার
- বিচারপতি এমদাদুল হক
- ইফতেখারুজ্জামান
- সফর রাজ হোসেন
- মো. আইয়ুব মিয়া
- প্রধান উপদেষ্টার সহকারী মনির হায়দার
এই সংলাপের দ্বিতীয় পর্বে মোট ৩০টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। আগামী রোববার আলোচনা ফের শুরু হবে।






















































