জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার ফ্রান্সেসকা আলবানিজ সম্প্রতি একটি বিস্ফোরক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন, যেখানে উঠে এসেছে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যায় সহায়তাকারী ৪৮টি আন্তর্জাতিক করপোরেট সংস্থার নাম। এই তালিকায় রয়েছে প্রযুক্তি, অস্ত্র, নির্মাণ ও বিনিয়োগ খাতের বহু বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান, যেমন: মাইক্রোসফট, গুগল (অ্যালফাবেট), অ্যামাজন, আইবিএম, লকহিড মার্টিন, ক্যাটারপিলার, বুকিং.কম ও এয়ারবিএনবি।
🔍 মূল অভিযোগসমূহ
১. প্রযুক্তি সহযোগিতা
- মাইক্রোসফট, গুগল, অ্যামাজন ও আইবিএম:
- ইসরায়েলি বাহিনীকে ক্লাউড সেবা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও বায়োমেট্রিক নজরদারি প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করেছে।
- ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি, বৈষম্যমূলক পারমিট ও ডেটা বিশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়েছে এসব প্রযুক্তি।
২. অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা
- লকহিড মার্টিন (F-35 নির্মাতা), লিওনার্দো, ফ্যানুক:
- ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত অস্ত্র ও যন্ত্রাংশ তৈরি ও সরবরাহ করেছে।
- প্যালান্টিয়ার টেকনোলজিস: AI-চালিত যুদ্ধ সিদ্ধান্ত প্রযুক্তি সরবরাহ করেছে যেমন “ল্যাভেন্ডার”, “গসপেল”, “হোয়ার ইজ ড্যাডি”।
৩. নির্মাণ ও বসতি স্থাপন
- ক্যাটারপিলার, ভলভো, এইচডি হুন্দাই:
- অবৈধ বসতি গড়ে তোলা ও ফিলিস্তিনি বাড়িঘর ধ্বংসে ব্যবহৃত ভারী যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেছে।
৪. অবৈধ পর্যটন ও বসতি উৎসাহ
- বুকিং.কম ও এয়ারবিএনবি:
- পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতিগুলোর আবাসিক সুবিধা বিজ্ঞাপন ও বুকিংয়ের মাধ্যমে বৈধতা দিতে সহায়তা করছে।
৫. অর্থায়ন ও বিনিয়োগ
- ব্ল্যাকরক ও ভ্যানগার্ড:
- এই দুই বহুজাতিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান প্রায় সব উল্লেখিত কোম্পানির শীর্ষ বিনিয়োগকারী।
⚖️ আইনি দায় ও সম্ভাব্য বিচার
আলবানিজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—
- মানবাধিকার লঙ্ঘনে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত করপোরেট সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দায় এড়াতে পারে না।
- রাষ্ট্রের ব্যর্থতা থাকলেও কোম্পানিগুলোর নৈতিক ও আইনি বাধ্যবাধকতা রয়ে যায়।
- সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হলে আন্তর্জাতিক আদালতে এসব কোম্পানির কর্মকর্তাদের বিচার করা যেতে পারে।






















































