এশিয়া কাপ নাকি ছদ্মবেশে আরেক ভারত-পাকিস্তান সিরিজ?

0
160

📍 ঢাকা | ক্রীড়া প্রতিবেদক

ভারত-পাকিস্তানের ক্রিকেট দ্বৈরথ যেন এশিয়া কাপে পরিণত হয়েছে একটি নির্ধারিত নাটকে—পরিচালনা, চিত্রনাট্য সবই সাজানো। একের পর এক আসরে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) যেন নিশ্চিত করেই রাখছে যে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এই দুই দল বারবার মুখোমুখি হবে।

এবারের ১৭তম এশিয়া কাপেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। টানা চতুর্থবারের মতো ভারত ও পাকিস্তানকে একই গ্রুপে রাখা হয়েছে। এসিসি প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ ‘এ’ তে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, ওমান এবং স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাত। অন্যদিকে গ্রুপ ‘বি’ তে রাখা হয়েছে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও হংকংকে।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, এই পদ্ধতি মোটেই কাকতালীয় নয়। বরং এটি একটি স্পষ্ট পরিকল্পনার ফল, যেখানে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ থেকে সর্বোচ্চ আর্থিক লাভ নিশ্চিত করতে চায় আয়োজক ও বিজ্ঞাপনদাতারা।

📊 বাণিজ্যিক খেলা?

বর্তমানে ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ। এ অবস্থায় তাদের দ্বৈরথ দেখা এখন ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য যেমন বিরল, তেমনি আয়োজকদের জন্য অর্থ উপার্জনের বিরাট সুযোগ। আর তাই, একাধিকবার মুখোমুখি হওয়ার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতেই এমন গ্রুপিং—এমনটাই অভিযোগ অনেকের।

গত তিন আসরেই ভারত-পাকিস্তান ছিল একই গ্রুপে। প্রতিবারই তুলনামূলক দুর্বল দলের সঙ্গে খেলেছে তারা—যেমন হংকং, নেপাল। এর ফলে সহজেই সুপার ফোরে পৌঁছেছে তারা, যেখানে আবার মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ। এমনকি ফাইনালেও সম্ভাবনা থেকে যায়।

📉 টুর্নামেন্টের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ

ক্রিকেটের মতো বহুদলীয় খেলায় টুর্নামেন্টের আকর্ষণ বাড়ায় অনিশ্চয়তা—কোনো কিছু নির্ধারিত নয়, লটারিতে গ্রুপ নির্ধারণই নিয়ম। কিন্তু এসিসি বারবার এই নিয়মকে এড়িয়ে যাচ্ছে। এতে প্রশ্ন উঠছে—এশিয়া কাপ কি ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে একটি “ছদ্মবেশী ভারত-পাকিস্তান সিরিজে”?

২০০৪ সালের পর এমন বৈষম্যমূলক গ্রুপিং বারবার ঘটছে। তখন ভারত-পাকিস্তান নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলত, তাই টুর্নামেন্টে এত কৃত্রিমতা ছিল না। এখন রাজনীতি ও ব্যবসায়িক স্বার্থের মিশেলে এশিয়া কাপ হয়ে উঠেছে পূর্বনির্ধারিত স্ক্রিপ্টে পরিচালিত এক ‘বিশেষ আয়োজন’।

👥 দর্শকের চোখে সন্দেহ

দর্শকরা এখনো ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দেখতে আগ্রহী, তবে তারা চাইছেন—খেলা হোক প্রতিযোগিতামূলক, পূর্বনির্ধারিত নয়। প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এই প্রবণতা কি এশিয়া কাপের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে?

শেষ কথা: এসিসি যদি সত্যিকারের বহুদলীয় প্রতিযোগিতার উত্তেজনা ফিরিয়ে আনতে চায়, তাহলে গ্রুপ নির্ধারণে স্বচ্ছতা ও ক্রীড়ানীতির প্রতি দায়বদ্ধতা দেখানো জরুরি। নইলে এই জনপ্রিয় টুর্নামেন্ট হয়তো শিগগিরই দর্শকের আস্থা হারাবে।

Previous articleসৌদি আরবকে বাংলাদেশে উৎপাদন খাত গড়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার
Next articleআগামীকাল সব দলের কাছে সমন্বিত খসড়া সনদ দেবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন: আলী রীয়াজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here