ঢাকা, ৫ সেপ্টেম্বর: বাংলাদেশ এশিয়ার সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণের দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে দেশের মোট বিতরণকৃত ঋণের ২০.২ শতাংশ খেলাপি হয়ে গেছে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০.২৭ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৮ শতাংশ বেশি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ঋণ ব্যবস্থাপনা দুর্বল এবং খেলাপি ঋণ আদায়ের কার্যকারিতা কম। ভারতের মতো প্রতিবেশী দেশ ঋণ পুনর্গঠন ও ব্যাংক সংস্কারের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ কমাতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশের খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ার পেছনে শিথিল নিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব এবং পূর্ববর্তী সরকারের নীতি দায়ী।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, “আগের সরকার বড় ব্যবসায়ীদের ঋণ বারবার পুনঃতফসিল করে প্রকৃত খেলাপি চিত্র লুকিয়েছে। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করছে, তাই ঋণের প্রকৃত পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।”
অর্থনীতিবিদ সেলিম রায়হান বলেন, “বাংলাদেশকেও ভারতের মতো কঠোর ঋণনীতি ও নিয়ম প্রয়োগ করতে হবে। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ, আইন শক্তিশালী করা এবং বাজার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাটাই সবচেয়ে জরুরি।”
এডিবি সতর্ক করে বলেছে, বৈশ্বিক অর্থনীতির মন্দা ও বাণিজ্য দ্বন্দ্বের কারণে খেলাপি ঋণ আরও বাড়তে পারে। তাই দ্রুত নীতিগত পদক্ষেপ ও কার্যকর বিচারব্যবস্থা প্রয়োজন।























































