আসন্ন বাজেটে কর বৃদ্ধি হতে পারে: এনবিআর চেয়ারম্যান

0
210

দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আসন্ন বাজেটে যৌক্তিকভাবে কর বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি জানান, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত বিশ্বের অন্যতম সর্বনিম্ন। এটি একটি উদ্বেগের বিষয় এবং কর কমালে বড় ধরনের রাজস্ব ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সহনীয় হবে না। তিনি বলেন, “রাজস্ব আদায় বাড়ানো ছাড়া অগ্রগতি নিশ্চিত করা অসম্ভব।”

কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল অগ্রগতি
এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, দেশে নিবন্ধিত ১ কোটি ৪৫ লাখ করদাতার মধ্যে মাত্র ৪৫ লাখ কর প্রদান করেন, যার মধ্যে ৩০ লাখ শূন্য রিটার্ন জমা দেন। তবে ডিজিটাল কর ব্যবস্থার অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য। গত বছর ৪ লাখ অনলাইন রিটার্ন জমা পড়লেও এ বছর তা ১৫ লাখে পৌঁছেছে।

ব্যবসায়ীদের ভ্যাট কমানোর প্রস্তাবের জবাবে তিনি বলেন, সব পণ্যে একই হার নির্ধারণ করে ভ্যাট কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে তিনি ব্যবসায়ীদের সৎ থাকার আহ্বান জানান। এছাড়া, মাসিক ভ্যাট নিরীক্ষার পরিবর্তে ত্রৈমাসিক নিরীক্ষার পরিকল্পনার পাশাপাশি ভ্যাট ব্যবস্থাকে স্বয়ংক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কর ফাঁকি ও সুবিধার অপব্যবহার নিয়ে কঠোর অবস্থান
তিনি রপ্তানিমুখী শিল্পের করমুক্ত কাঁচামালের সুবিধার অপব্যবহারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, “এই কাঁচামাল স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়, যা নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।” এছাড়া, রিকন্ডিশন গাড়ির বাজারে আন্ডার-ইনভয়েসিংয়ের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “১৫ লাখ টাকায় আমদানিকৃত গাড়ি ৪০ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ কারণে ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে হচ্ছে।”

জাহাজভাঙা শিল্পে শুল্ক সম্পর্কেও তিনি বলেন, “শুল্ক না থাকলে জাহাজগুলোতে মূল ওজনের চেয়ে বেশি তেল আমদানি করা হবে, যা অপব্যবহারের উদাহরণ।”

ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবনা
সিসিসিআই প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার পাশা এবং অন্যান্য ব্যবসায়ী নেতারা কর ও ভ্যাট ব্যবস্থাকে সহজীকরণ, বন্ড ব্যবহারে নজরদারি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উৎসে কর মওকুফ, অগ্রিম আয়কর (এআইটি) দ্রুত ফেরত, এবং ভ্যাট ১৫% থেকে কমিয়ে ৮% করার প্রস্তাব দেন।

শিল্পপতিদের পক্ষ থেকে খলিলুর রহমান মূলধনী যন্ত্রপাতির ওপর শুল্ক কমানোর দাবি জানিয়ে বলেন, “গত বছর ক্রেনের মতো যন্ত্রপাতির শুল্ক ১% থেকে বাড়িয়ে ২৭% করা হয়েছে, যা পুনরায় কমানো জরুরি।”

এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, বেশিরভাগ প্রস্তাব যুক্তিসঙ্গতভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং বাজেটে প্রতিফলন ঘটবে বলে তিনি আশাবাদী। তিনি কর ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জাতীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে সমতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

Previous articleট্রাম্প ৯০ দিনের জন্য পাল্টা শুল্ক স্থগিত করলেন, চীনের পণ্যে শুল্ক বাড়ালেন ১২৫%
Next articleআর্জেন্টিনাকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গে রাফিনিয়ার নতুন মন্তব্য

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here