বিবিসি প্রতিবেদন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্ক ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করেছেন। তবে এ সময় শুল্ক ন্যূনতম ১০ শতাংশ কার্যকর থাকবে। চীনের পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক বাড়িয়ে ১২৫ শতাংশ করেছেন তিনি।
বুধবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “চীন বিশ্বের বাজারগুলোকে শ্রদ্ধা না দেখানোয় আমরা তাদের পণ্যে শুল্ক বাড়িয়ে ১২৫ শতাংশ করেছি। এটি তাৎক্ষণিক কার্যকর হবে।”
শুল্ক স্থগিতের পেছনের কারণ
ট্রাম্প জানান, ৭৫টিরও বেশি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে আলোচনার জন্য অনুরোধ করেছে। এসব দেশের প্রতিনিধিদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে তিনি চীন বাদে অন্য সব দেশের জন্য শুল্ক তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, “যেসব দেশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেনি, তারা পুরস্কৃত হচ্ছে। মেক্সিকো ও কানাডাও ১০ শতাংশ শুল্কের আওতায় থাকবে।”
বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক প্রভাব
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “৯০ দিনের শুল্ক স্থগিতের অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ায় আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব।”
গত সোমবার অধ্যাপক ইউনূস ট্রাম্পকে চিঠি দিয়ে বাংলাদেশি পণ্যে আরোপিত ৩৭ শতাংশ শুল্ক স্থগিতের অনুরোধ করেছিলেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য আমদানিতে শুল্ক কমানোর প্রস্তাবও দিয়েছিলেন।
চীনের ওপর কড়া শুল্ক
চীনের পণ্যে শুল্ক ১২৫ শতাংশে উন্নীত করার সিদ্ধান্তের ফলে মার্কিন-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। চীন পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে মার্কিন পণ্যে ৮৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট বলেন, “চীন যখন যুক্তরাষ্ট্রকে আঘাত করে, তখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পাল্টা আরও কঠিন আঘাত করেন।”
বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব
ট্রাম্পের শুল্ক নীতির ফলে এশিয়া ও ইউরোপের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৬০ ডলারে নেমে এসেছে, যা ২০২১ সালের পর সর্বনিম্ন।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য মন্দার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।



















































