২০২৫ সালে ব্যাংক খাতে নারী কর্মী কমেছে ২,৫৮৮ জন

0
112

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ব্যাংকিং খাতে গত কয়েক বছর ধরে নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা বাড়লেও ২০২৫ সালে উল্টো কমেছে। বছরে মোট ২ হাজার ৫৮৮ জন নারী কর্মী কমেছে বলে জানিয়েছে ।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত জেন্ডার ইক্যুইটি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৬১ জন। এর আগে জুন শেষে এই সংখ্যা ছিল ৩৫ হাজার ৭৮২ জন। আর ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে নারী কর্মীর সংখ্যা ছিল ৩৭ হাজার ৬৪৯ জন।

ব্যাংকারদের মতে, গত এক বছরে একাধিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার পর অনেক কর্মকর্তা স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়েছেন। পাশাপাশি নিয়োগে অনিয়ম ধরা পড়ায় অনেককে চাকরিচ্যুতও করা হয়েছে। নতুন নিয়োগ কম হওয়াও নারী কর্মী কমার অন্যতম কারণ।

ব্যাংকের ধরনভেদে দেখা গেছে, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে নারী কর্মীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে এসব ব্যাংকে নারী কর্মী আছেন ২২ হাজার ৯৮৩ জন, যা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর মোট জনবলের ১৬ দশমিক ১৩ শতাংশ। ব্যাংক খাতের মোট নারী কর্মীর প্রায় ৬৬ শতাংশই এখানে কর্মরত।

ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে নারী কর্মীর সংখ্যা ৯ হাজার ১৪৭ জন, যা এসব ব্যাংকের মোট কর্মীর ১৬ দশমিক ৯০ শতাংশ। অন্যদিকে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে নারী কর্মীর সংখ্যা সবচেয়ে কম—৯৮৪ জন। তবে অংশগ্রহণের হারে বিদেশি ব্যাংকগুলোই এগিয়ে; সেখানে নারীর অংশগ্রহণ ২৫ দশমিক ৩ শতাংশ।

২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতে মোট কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১২ হাজার ৪২৭ জন। এর মধ্যে নারীর অংশ ১৬ দশমিক ৫০ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ে নারীদের অংশগ্রহণে বৈষম্য রয়েছে। প্রারম্ভিক পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ এবং মধ্য পর্যায়ে ১৬ দশমিক ১৯ শতাংশ হলেও উচ্চ পর্যায়ে তা নেমে এসেছে ১০ দশমিক ৩৫ শতাংশে।

ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদেও নারীর অংশগ্রহণ কম। বোর্ড সদস্যদের মধ্যে নারীর হার মাত্র ১৩ দশমিক ১১ শতাংশ। বিদেশি ব্যাংকে এ হার সর্বোচ্চ ১৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ, আর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে সর্বনিম্ন ৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

এদিকে বর্তমানে দেশের ৬১টি তফসিলি ব্যাংক ও ৩৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটির সুবিধা রয়েছে। সব ব্যাংকে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ নীতিমালা চালু থাকলেও মাত্র ৩৮টি ব্যাংক ও ছয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া ৩৮টি ব্যাংক নারী কর্মীদের জন্য যাতায়াত সুবিধা দিচ্ছে।

Previous articleপ্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে পারেন খন্দকার মোশাররফ
Next articleকর্মস্থল ছেড়ে মন্ত্রণালয়ে গিয়ে তদবির না করতে পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here