সরকারি কর্মচারীরা যদি আন্দোলনে জড়ান বা সহকর্মীদের কাজে বাধা দেন, তবে তাদের বাধ্যতামূলক অবসর কিংবা চাকরিচ্যুত করার বিধান রেখে জারি হলো সরকারি চাকরি (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫।
বুধবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
🔍 কী আছে নতুন অধ্যাদেশে?
নতুন অধ্যাদেশের ধারা ৩৭(ক)-তে বলা হয়েছে,
যদি কোনো সরকারি কর্মচারী—
- কর্তৃপক্ষের বৈধ আদেশ অমান্য করেন,
- নিজের কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন কিংবা
- অন্য সরকারি কর্মচারীকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখেন—
তবে তা “সরকারি কর্মে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অসদাচরণ” হিসেবে গণ্য হবে এবং এর জন্য তাকে নিচের যেকোনো শাস্তি দেওয়া যাবে:
- নিম্নপদ বা নিম্ন বেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ
- বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান
- চাকরি হতে বরখাস্ত
🧾 আইনি ব্যাখ্যা
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর তাকে কারণ দর্শাতে ৭ কার্যদিবসের সময় দেওয়া হবে। ব্যক্তিগত শুনানির সুযোগও থাকবে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো— রাষ্ট্রপতির আদেশের বিরুদ্ধে কোনো আপিল করা যাবে না, তবে তিনি চাইলে রিভিউ করতে পারবেন, যা চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
🗨️ বিশেষজ্ঞ মত
আইনজীবীরা মনে করছেন, অধ্যাদেশে “আন্দোলন” শব্দটি সরাসরি উল্লেখ না করলেও কর্মস্থলে বাধা সৃষ্টি বা দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা—এই ভাষাগুলো স্পষ্টতই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতেই ব্যবহার করা হয়েছে।
🖼️ প্রেক্ষাপট
গত ২৯ জুন জাতীয় রাজস্ব ভবনের সামনে এনবিআর কর্মকর্তাদের আন্দোলনের পর থেকেই সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলন নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। ধারণা করা হচ্ছে, এরই প্রেক্ষিতে দ্রুতগতিতে অধ্যাদেশটি জারি করা হলো।























































