দ্বিতীয়বারের মতো উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপা জিতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লেন পর্তুগালের কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। ৪০ বছর বয়সী এই তারকা দেশের জয়ে চোখে জল আর মুখে হাসি নিয়ে উদযাপনে মাতেন। ম্যাচ শেষে তিনি জানান, পর্তুগালের হয়ে ট্রফি জেতা তার ক্লাব ক্যারিয়ারের যেকোনো সাফল্যের চেয়ে অনেক বড়।
গত রোববার মিউনিখের আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত ফাইনালে স্পেনকে টাইব্রেকারে ৫-৩ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয় পর্তুগাল। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র থাকায় গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে।
রোনালদো ৬১তম মিনিটে গোল করে পর্তুগালকে দ্বিতীয়বার সমতায় ফেরান। এটি তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ১৩৮তম গোল। তবে খেলার ৮৮তম মিনিটে ইনজুরির কারণে তিনি মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। ফলে টাইব্রেকারে অংশ নিতে পারেননি। বেঞ্চে বসে তিনি সতীর্থদের নিখুঁত স্পট-কিক ও গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তার অসাধারণ সেভ দেখেন।
ম্যাচ শেষে স্পোর্ত টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আবেগঘন রোনালদো বলেন, “এটা দারুণ এক মুহূর্ত— এই প্রজন্ম, আমাদের পরিবার, সন্তান, স্ত্রী, ভাই, বন্ধু— সবার জন্য। জাতীয় দলের হয়ে শিরোপা জেতা সবসময়ই বিশেষ কিছু। ক্লাবে অনেক ট্রফি জিতেছি, কিন্তু দেশের হয়ে জয়ের অনুভূতি অনন্য।”
দলের অধিনায়ক হিসেবে এই অর্জন তাকে বাড়তি গর্বিত করেছে বলেও জানান তিনি, “এই প্রজন্মের নেতা হতে পেরে আমি গর্বিত। জাতীয় দলের হয়ে শিরোপা জেতা আমার জন্য সবচেয়ে বড় অর্জন।”
এই জয়ে রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এটি তৃতীয় বড় ট্রফি— ২০১৬ ইউরো ও ২০১৯ নেশনস লিগের পর আরও একটি সাফল্য যুক্ত হলো।
তবে তার ক্লাব ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন, এ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য ক্লাব বিশ্বকাপে তিনি অংশ নিচ্ছেন না। আল নাসরের সঙ্গে তার বর্তমান চুক্তি শেষের পথে, তবে ক্লাবটি নতুন চুক্তির ব্যাপারে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। একইসঙ্গে কয়েকটি অন্য ক্লাবের আগ্রহও রয়েছে রোনালদোকে নিয়ে।
তবে এসব নিয়ে এখনই ভাবতে রাজি নন রোনালদো। “এই মুহূর্তে আমি কেবল বিশ্রাম নিতে চাই। ফাইনালে আমি চোট নিয়েই খেলেছি এবং দেশের জন্য সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কারণ, জাতীয় দলে খেলাটা সব সময় আত্মত্যাগের বিষয়,” বলেন সিআর সেভেন।





















































