বাংলাদেশ সরকার দেশের পুঁজিবাজার সংস্কারে গতি আনতে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে। এই সিদ্ধান্তগুলো ১১ মে ২০২৫ তারিখে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে গৃহীত হয়। বৈঠকে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী, বিএসইসি চেয়ারম্যান খোন্দকার রাশেদ মাকসুদ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক উপস্থিত ছিলেন ।
প্রধান নির্দেশনাসমূহ:
- সরকারি মালিকানাধীন লাভজনক কোম্পানি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে সরকারের শেয়ার হ্রাস করে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা: যেমন, ইউনিলিভার বাংলাদেশে সরকারের ৩৯.২৫% শেয়ার রয়েছে, যা বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে ।
- বড় বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনতে প্রণোদনা প্রদান: সিটি গ্রুপ ও মেঘনা গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে তালিকাভুক্ত করতে কর ছাড় ও নীতিগত সহায়তা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ।
- বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে তিন মাসের মধ্যে পুঁজিবাজার সংস্কার: বাজারে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রভাব রোধে নিরপেক্ষ বিদেশি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি দল গঠন করে তিন মাসের মধ্যে সংস্কারমূলক সুপারিশ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ।(Prothomalo)
- পুঁজিবাজারে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ: বাজারে দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।
- বড় ঋণপ্রাপ্ত কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজার থেকে তহবিল সংগ্রহে উৎসাহিত করা: ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বন্ড ও ইক্যুইটির মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহে কোম্পানিগুলোকে উৎসাহিত করতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।
এই পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে সরকার পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে চায়, যাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং বাজারে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়।






















































