ইসরায়েল সম্প্রতি গাজা উপত্যকায় পূর্ণ সামরিক দখল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা এই পদক্ষেপকে ১৯৪৮ সালের ‘নাকবা’র পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখছেন, যখন লাখো ফিলিস্তিনি তাদের ভূমি থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন।
ইসরায়েলের নতুন সামরিক পরিকল্পনা
ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গাজা দখলের একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে, যার মাধ্যমে গাজার অধিকাংশ অঞ্চল দখল করে সেখানে স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখা হবে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, হাজার হাজার রিজার্ভ সেনা মোতায়েন করা হবে এবং গাজার অধিকাংশ ফিলিস্তিনিকে দক্ষিণাঞ্চলে সরিয়ে নেওয়া হবে, যেটিকে হামাসমুক্ত অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ।
এই পরিকল্পনার মাধ্যমে ইসরায়েল গাজায় মানবিক সহায়তা বিতরণ নিয়ন্ত্রণে নিতে চায়, যা জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা দ্বারা সমালোচিত হয়েছে ।(El País)
হামাসের প্রতিক্রিয়া
হামাস এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাদের মতে, যতক্ষণ ইসরায়েল গাজার জনগণকে ক্ষুধার্ত রেখে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাবে, ততক্ষণ কোনো যুদ্ধবিরতির আলোচনা অর্থহীন। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইসরায়েলের এই পরিকল্পনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যা আরও বেসামরিক হতাহতের আশঙ্কা তৈরি করেছে (The Guardian)। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই পদক্ষেপকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন এবং চীন গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করেছে।
‘আরেক নাকবা’র আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের এই নতুন পরিকল্পনা ১৯৪৮ সালের ‘নাকবা’র পুনরাবৃত্তি হতে পারে, যখন প্রায় সাড়ে সাত লাখ ফিলিস্তিনি তাদের ভূমি থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে গাজায় মানবিক সংকট আরও গভীর হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে সংঘাতের সম্ভাবনা বাড়বে।
এই পরিস্থিতিতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব হলো মানবাধিকার রক্ষা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা পালন করা।






















































