বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, শেখ হাসিনা জন্মগতভাবে স্বৈরাচার নন; জননেত্রী হিসেবেই তিনি রাজনীতিতে এসেছিলেন। তবে সমাজ, প্রশাসন ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির সমন্বিত ব্যর্থতায় ‘সিস্টেম’ তাঁকে স্বৈরাচারী চরিত্রে ঠেলে দিয়েছে।
আজ সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) বার্ষিক সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনের শিরোনাম ছিল ‘গণতন্ত্র ও উন্নয়ন’।
ড. মনসুর বলেন, “সমাজ যখন নৈতিকতা হারায়, প্রশাসন যখন দায়িত্বচ্যুত হয়, বুদ্ধিজীবীরা নীরব থাকেন এবং ভোটার যোগ্যতার বদলে মার্কাকে প্রাধান্য দেন—তখনই ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হয়। এই কাঠামোই একজন নেতাকে অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতার কেন্দ্রে ঠেলে দেয়।”
তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৫ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে শিক্ষক সমাজ কিংবা সুশীল সমাজ—কোথাও উল্লেখযোগ্য আলোচনা বা প্রতিবাদ দেখা যায়নি। তাঁর ভাষায়, “নাগরিক সমাজের অবস্থান হওয়া উচিত ছিল নীতিভিত্তিক ও অনড়, যা হয়নি।”
ব্যবসায়ীদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরে গভর্নর বলেন, “শেষ দিকের এক বৈঠকে ব্যবসায়ীরা বলেছেন—‘আমি আপনাকেই চাই, বারবার আপনাকেই চাই।’ এ ধরনের অন্ধ সমর্থনই একচ্ছত্র ক্ষমতার পরিবেশ তৈরি করে।”
ড. মনসুর মনে করেন, দেশের রাজনৈতিক সংকট ও গণতন্ত্রের দুর্বলতায় দায় কোনো একক ব্যক্তি বা সরকারের নয়; বরং ভোটার, প্রশাসন, ব্যবসায়ী, বুদ্ধিজীবী—সমাজের সব অংশই নৈতিক অবস্থান হারিয়েছে।
“আমরা শুধু ভোটের দিনটিকেই গণতন্ত্র মনে করি। অথচ গণতন্ত্র মানে প্রতিদিন জবাবদিহি করা, প্রশ্ন তোলা এবং নেতৃত্বকে মূল্যায়ন করা,”—যোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে অধিবেশনে অংশ নিয়ে অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান বলেন, শক্তিশালী গণতন্ত্র ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।




















































