জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় দেশের সংবিধানের মূলনীতির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি ১৯৭২ সালের সংবিধানের মূলনীতি ও পরবর্তী সংশোধনীতে দলীয় আদর্শ সংযোজনের সমালোচনা করে এগুলো বাতিলের দাবি জানিয়েছে। এনসিপি বহুত্ববাদ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যাও চেয়েছে।
আলোচনা ও প্রস্তাব
সভার পরে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন:
“মূলনীতি কাঠামোর বাইরে সংবিধান কল্পনা করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে আমরা প্রশ্ন তুলেছি। গণপ্রজাতন্ত্রী ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মূলনীতির প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,
“আমরা ক্ষমতার ভারসাম্য, নারীর ক্ষমতায়ন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, এবং শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের মতো বিষয়গুলো প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করেছি।”
মূল প্রস্তাবসমূহ
- সংবিধানের মূলনীতি বাতিলের দাবি:
এনসিপি ১৯৭২ সালের সংবিধানের চার মূলনীতি এবং সংশোধনীগত দলীয় আদর্শ বাতিলের প্রস্তাব করেছে। - দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ:
উচ্চকক্ষ আনুপাতিক ভোটের ভিত্তিতে গঠনের পক্ষে সমর্থন। - নির্বাচনকালীন সরকার:
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নামকরণে “নির্বাচনকালীন” শব্দ যুক্ত করার প্রস্তাব। - সংসদ সদস্যের স্বাধীনতা:
বাজেট ও অনাস্থা ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার অধিকার। - সাংবিধানিক পদে নিয়োগ:
জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ। - নারী প্রতিনিধিত্ব:
১০০ আসনে নারীদের সরাসরি নির্বাচনের সুযোগ সৃষ্টি। - ইলেকট্রোরাল কলেজের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন:
গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন।
রাজনৈতিক সমঝোতার আহ্বান
নাহিদ ইসলাম এবং এনসিপির অন্যান্য নেতারা রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যে পৌঁছানোর আহ্বান জানান।
“রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন সম্ভব। দলীয় উদ্যোগে আলোচনা ও বোঝাপড়ার পথ খোলা রাখা প্রয়োজন।”
বিশ্লেষণ
এনসিপির প্রস্তাবগুলো দেশের রাজনীতি এবং সংবিধান সংস্কারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের দিকে ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে দলীয় প্রভাবমুক্ত বিচার ব্যবস্থা, নারীর ক্ষমতায়ন, এবং সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। তবে এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য প্রয়োজন।






















































