📌 “আমেরিকাকে কিছু ক্ষেত্রে প্রাধান্য দিয়েই পারস্পরিক শুল্ক সংকটের সমাধান সম্ভব”
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
বাংলাদেশের ওপর আরোপিত যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক বা রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ ইস্যুতে আলোচনা এগিয়ে নিতে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের বিদ্যমান বাণিজ্য রক্ষা ও নিজেদের স্বার্থ সংরক্ষণ করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
তিনি বলেন,
“যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা প্রস্তাবগুলো আমরা খতিয়ে দেখছি। প্রয়োজনীয় দিকগুলোতে ছাড় দেওয়া হতে পারে, তবে তা হবে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার শর্তে।”
🔶 যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব: শুল্ক হ্রাসের বিনিময়ে অগ্রাধিকার
ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি আমদানি পণ্যের ওপর রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ কমানোর জন্য বাংলাদেশের কাছে কিছু পণ্যে শুল্ক, ভ্যাট ও নিয়ন্ত্রক শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গম, সয়াবিন, উড়োজাহাজ, যন্ত্রপাতি এবং তুলা—যেগুলোর ওপর শুল্ক হার এমনিতেই তুলনামূলকভাবে কম।
বাণিজ্যসচিব বলেন,
“সরকারি পর্যায়ে খাদ্যশস্য ক্রয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কিছুটা অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বোয়িং থেকে বিমান কেনার ক্ষেত্রেও আলোচনা চলছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক ভারসাম্য তৈরি হবে।”
🔶 ফ্রেমওয়ার্ক নিয়ে আলোচনা চলছে
৮ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো ট্যারিফ সিডিউল ডকুমেন্ট এখন বাংলাদেশ সরকারের হাতে রয়েছে। সচিব জানান,
“এই ডকুমেন্টটি নিয়েই মূল আলোচনা হবে। এটি আগের এগ্রিমেন্টেরই একটি এক্সটেনশন। আলোচনা চলছে, আশা করছি ভালো কিছু আসবে।”
🔶 সামরিক ও যন্ত্রাংশ খাতে যুক্তরাষ্ট্রকে অগ্রাধিকার
মিলিটারি হার্ডওয়্যারসহ বিভিন্ন আমদানি খাতে যুক্তরাষ্ট্রকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সচিব। তবে তিনি স্পষ্ট করেন,
“যুক্তরাষ্ট্র আমাদের উপর কোনো চাপ দেয়নি, শুধু প্রাধান্য চেয়েছে। অন্য দেশগুলোর মতো যুক্তরাষ্ট্রও চাইছে তাদের পণ্য বেশি আমদানি হোক।”
🔶 সমালোচনার জবাব: বাংলাদেশও তৎপর
ভিয়েতনাম যেখানে আলোচনার মাধ্যমে ২৬% শুল্ক হ্রাস করিয়েছে—এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে সচিব বলেন,
“আমরাও কম তৎপর ছিলাম না। পাঁচ দফা আলোচনায় বসেছি, চার দফা সংশোধিত খসড়া পাঠিয়েছি। আমরা পূর্ণ সময় এনগেইজড ছিলাম।”
🔶 চাপ থাকলেও আলোচনার পথেই সমাধান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হলে আমদানি-রপ্তানির ওপর চাপ আসবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন,
“চাপ আসতে পারে, তবে আমরা আলোচনা করছি বলেই তো এই চাপ এড়াতে চাইছি। আশা করছি ইতিবাচক কিছুই হবে।”




















































