নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা | শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগে করাচি বন্দর ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ বলছে, এই রুট চালু হলে আঞ্চলিক সামুদ্রিক সংযোগ বাড়বে এবং বিকল্প সমুদ্রপথ খুলে যাবে।
আগামী ২৭ অক্টোবর ঢাকায় বাংলাদেশ-পাকিস্তান যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের (জেইসি) নবম বৈঠকে প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। প্রায় দুই দশক পর দুই দেশের মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, সরাসরি সামুদ্রিক বাণিজ্য জোরদারে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) ও পাকিস্তান ন্যাশনাল শিপিং কর্পোরেশনের (পিএনএসসি) মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের প্রস্তাবও আলোচনায় আসবে।
ইআরডির এক কর্মকর্তা বলেন, “চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের (সিপিইসি) প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের এই প্রস্তাব আঞ্চলিক কানেক্টিভিটির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। করাচির মাধ্যমে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য পরিবহন আরও সহজ হতে পারে।”
পাকিস্তান চায়, দুই দেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিপিং কর্পোরেশনগুলো সরাসরি বাণিজ্যে যুক্ত হোক। এতে তৃতীয় দেশের বন্দরনির্ভরতা কমবে এবং নিয়মিত জাহাজ চলাচল নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত বছর নভেম্বরে করাচি থেকে চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো সরাসরি কার্গো জাহাজ আসে। সেটি ছিল পাঁচ দশকের মধ্যে দুই দেশের প্রথম সরাসরি সামুদ্রিক যোগাযোগ।
২০ বছর পর জেইসি বৈঠক
ইআরডির তথ্যমতে, সর্বশেষ বাংলাদেশ-পাকিস্তান জেইসি বৈঠক হয়েছিল ২০০৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকায়। এবারের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং পাকিস্তানের পক্ষে অর্থনৈতিক বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী আহাদ খান চিমা প্রতিনিধিত্ব করবেন।
বৈঠকে রপ্তানি বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের আমদানি ছিল ৬৬১ মিলিয়ন ডলার, আর বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি মাত্র ৫৭ মিলিয়ন ডলার।
ইআরডি কর্মকর্তারা বলছেন, “বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক, ফার্মাসিউটিক্যাল ও পাটজাত পণ্য পাকিস্তানের বাজারে বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।”
‘বাণিজ্যের নতুন সুযোগ’
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, “করাচি বন্দর ব্যবহারের প্রস্তাব দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। রাজনৈতিক সম্পর্ক অনুকূলে আসায় বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক গতি দেখা যাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “সরাসরি শিপিং লাইন চালু হলে বাংলাদেশের রপ্তানি ব্যয় ও সময় দুই-ই কমবে। পাশাপাশি চীনের সঙ্গে সামুদ্রিক যোগাযোগ আরও মজবুত হবে।”
আলোচনায় আরও যেসব বিষয়
জেইসি বৈঠকে পাকিস্তান হালাল কর্তৃপক্ষ ও বিএসটিআইয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক, বাংলাদেশের চিনি শিল্পে কারিগরি সহায়তা, ব্যাংকিং খাতে প্রশিক্ষণ, গবাদি পশুর জাত উন্নয়ন, যৌথভাবে টিকা উৎপাদন, ডিজিটাল পরিচয় ও পাসপোর্ট প্রকল্পে সহযোগিতা, ৫০০ নতুন শিক্ষাবৃত্তি এবং বাংলাদেশে একটি পাকিস্তানি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস স্থাপনের প্রস্তাবও আলোচনায় আসবে।
সূত্র জানিয়েছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, তথ্য বিনিময় ও পারিবারিক পরিকল্পনা বিষয়ে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির প্রস্তাবও আলোচ্যসূচিতে রয়েছে।




















































