নোয়াবের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান, গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় অটল অন্তর্বর্তী সরকার

0
178

অন্তর্বর্তী সরকার নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)-এর সাম্প্রতিক বিবৃতি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “নোয়াব সম্প্রতি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও তথ্যপ্রাপ্তির অবস্থা নিয়ে যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, তা অন্তর্বর্তী সরকার দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।”

সরকারের পক্ষ থেকে স্বচ্ছতা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

জনকণ্ঠ ঘটনা ও টিআইবি প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে নোয়াবের অভিযোগ
জনকণ্ঠের সাম্প্রতিক ঘটনা ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নোয়াব অভিযোগ করে যে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানির প্রবণতা বাড়ছে—যার মধ্যে হত্যাকাণ্ড, চাকরিচ্যুতি এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন রয়েছে।

প্রেস সচিবের জবাব
প্রেস সচিবের বিবৃতিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কোনো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের সম্পাদকীয়, প্রশাসনিক বা ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ করেনি। বরং মিথ্যা ও উসকানিমূলক বক্তব্যের মুখোমুখি হয়েও সরকার কোনো ধরনের সেন্সর আরোপ করেনি বা সম্প্রচার নিবন্ধন বাতিল করেনি। পূর্ববর্তী সরকারের সময় বন্ধ হওয়া কিছু গণমাধ্যমকে পুনরায় চালুর সুযোগও দেওয়া হয়েছে।

গণমাধ্যম অ্যাক্রেডিটেশন সংস্কার
নোয়াবের সমালোচিত সচিবালয়ের গণমাধ্যম অ্যাক্রেডিটেশন সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেয় সরকার। পুরনো ব্যবস্থায় প্রকৃত সাংবাদিক নন এমন ব্যক্তিরাও পাস পেতেন বলে দাবি করে প্রেস সচিব জানান, অস্থায়ীভাবে নতুন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে এবং স্থায়ী সমাধানের কাজ চলছে।

নোয়াবকে ‘নিজেদের দিকে তাকানোর’ আহ্বান
বিবৃতিতে নোয়াবকে সাংবাদিকদের মজুরি শোষণ, শ্রম অধিকার অস্বীকার ও অনিরাপদ কর্মপরিবেশের মতো সমস্যার জন্য দায় স্বীকার করার আহ্বান জানানো হয়। প্রেস সচিব বলেন, “ঘটনার ত্রুটিপূর্ণ ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে সার্বিক অভিযোগ আসল সমস্যাগুলো থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেয়।”

সাংবাদিক সুরক্ষা আইন বিবেচনায়
সরকার জানায়, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যৌথ দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত ‘সাংবাদিক সুরক্ষা আইন’ সরকার বিবেচনা করছে।

Previous articleআবারও বিসিবিতে ফিরছেন টনি হেমিং, থাকবেন টার্ফ ম্যানেজমেন্টের প্রধান পদে
Next articleমধ্যমপন্থিতায় বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা: মঈন খান

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here