‘ধ্বংসাত্মক’ বিক্ষোভের পর আতঙ্কে নেপাল

0
124

নেপালে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন রূপ নিয়েছে ভয়াবহ সহিংসতায়। কয়েক দিন ধরে চলা বিক্ষোভে অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন। সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণে নিলেও পরিস্থিতি এখনও অস্থিতিশীল।

গত মঙ্গলবার পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালালে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন পার্লামেন্ট ভবন, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়সহ একাধিক সরকারি স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। এমনকি নতুন চালু হওয়া একটি পাঁচতারকা হোটেলও আগুনে পুড়ে যায়।

এরপর সেনাবাহিনী সবকিছু নিয়ন্ত্রণে নেয়। কাঠমান্ডুতে সাময়িক কারফিউ শিথিলের পর মানুষজন খাদ্যসামগ্রী কিনতে রাস্তায় বের হন। চারপাশে দেখা গেছে আগুনে পোড়া যানবাহন ও ভবন।

৭৬ বছর বয়সী ধ্রুব শ্রেষ্ঠ বলেন, “আমি ছাত্রজীবন থেকে নেপালের অনেক সহিংসতা দেখেছি, কিন্তু এমন দাঙ্গা কখনো দেখিনি।”

গৃহযুদ্ধের অবসান ও রাজতন্ত্র বিলুপ্তির পর এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা বলে মনে করছে দেশটির রাজনৈতিক মহল। এরই মধ্যে জেল ভেঙে পালিয়েছে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কয়েদি। তাদের ধরতে তৎপর নিরাপত্তা বাহিনী।

রাজনৈতিক শূন্যতা কাটাতে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়। শুক্রবার রাতেই তার শপথ নেওয়ার কথা।

অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও দুর্নীতির প্রতিবাদ থেকেই এই আন্দোলন শুরু হয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, নেপালের ৮২ শতাংশ শ্রমিক অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন, যা বিশ্বের সর্বোচ্চ হারের মধ্যে অন্যতম।

রাস্তার ধারে এক শ্রমিক অনুপ থাপা বললেন, “আমাদের মতো দিনমজুরদের জন্য এ সময়টা ভয়াবহ। কাজ না থাকলে খাওয়া সম্ভব নয়।”

৭৩ বছরের অচ্যুত থাপালিয়া সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো দেখে অশ্রুসিক্ত চোখে ফিরে আসেন। “এটা ছিল আমাদের গর্ব,” বললেন তিনি।

সহিংসতার মাঝেও সাধারণ মানুষ শান্তি ফেরার প্রত্যাশায় দিন গুনছেন। ধ্রুব শ্রেষ্ঠর মতো অনেকে বলছেন—“পরিস্থিতি ভীতিকর, তবে আমাদের শান্তিতেই থাকা উচিত। এ দেশ তো বুদ্ধের দেশ।”

Previous articleআলবেনিয়ায় দুর্নীতি দমনের দায়িত্ব পেলেন এআই মন্ত্রী ‘ডিয়েলা’
Next articleবাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা: মাঠের ভেতর-বাইরের লড়াই

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here