চলতি অর্থবছরের (২০২৪-২৫) জুলাই-মার্চ সময়কালে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার ৩৬.৬৫ শতাংশ, যা গত পাঁচ অর্থবছরের একই সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) আজ এই হালনাগাদ চিত্র প্রকাশ করেছে।
তুলনামূলক খরচের চিত্র
- জুলাই-মার্চ সময়ে এডিপি খরচ:
- ২০২৪-২৫ অর্থবছর: ৮২,৮৯৪ কোটি টাকা
- ২০২৩-২৪ অর্থবছর: ১,০৭,৬১২ কোটি টাকা
- খরচের পরিমাণ কমেছে ২৪,৭১৪ কোটি টাকা।
বাস্তবায়নে পিছিয়ে পড়ার কারণ
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করেন, এডিপি বাস্তবায়নে পিছিয়ে পড়ার পেছনে কিছু বড় কারণ রয়েছে, যেমন:
- রাজনৈতিক পরিস্থিতি: জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ও ক্ষমতার পটপরিবর্তনের প্রভাব।
- ঠিকাদারদের অনুপস্থিতি: প্রকল্প পরিচালকদের খুঁজে না পাওয়া।
- প্রশাসনিক অচলাবস্থা।
এডিপি কাটছাঁট
মূল এডিপি ২,৭৮,২৮৯ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ২,২৬,১৬৫ কোটি টাকা করা হয়েছে।
নিম্ন বাস্তবায়ন হার: ২৫ শতাংশের কম
১৩টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের বরাদ্দের ২৫ শতাংশও খরচ করতে পারেনি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক): বরাদ্দ ৯.৯৬ কোটি টাকা থাকলেও এক টাকাও খরচ হয়নি।
- স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ।
- প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।
- নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।
- ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ।
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তা
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে এই ধীরগতি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
- প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি।
- সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ।
- ঠিকাদার এবং প্রকল্প পরিচালকদের জবাবদিহি বাড়ানো।
এডিপি বাস্তবায়নে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং সময়মতো অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।



















































