২০২৪ সালের প্রথমার্ধে মার্কিন সামরিক সহায়তার বিলম্বের কারণে ইউক্রেনের ফ্রন্টলাইনে সেনারা অস্ত্র সংকটে পড়েছে। যদিও এর ফলে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে ভেঙে পড়বে না, তবে যুদ্ধের মাঠে এর প্রভাব দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে, দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা এবং নিখুঁত হামলার সক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে।
২০২৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ইউক্রেনের পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে বন্ধ হয়ে যায়, যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের পর ঘটে। এর ফলে কংগ্রেস অনুমোদিত ৩.৮৫ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা আটকে যায়, এবং বাইডেন প্রশাসন অনুমোদিত সরঞ্জাম সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধের শুরুতে এই সহায়তা স্থগিত হলে ইউক্রেনের জন্য আরো বড় ক্ষতি হতো, কিন্তু এখন ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার ওপর আগের চেয়ে কম নির্ভরশীল। তবে কয়েক মাস পর অস্ত্রের মজুদ কমে গেলে ইউক্রেনের জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হতে পারে।
উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং HIMARS ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ বন্ধ হলে ইউক্রেনের প্রতিরোধে প্রভাব পড়বে। ২০২২ সালে রাশিয়ার আক্রমণের পর ইউক্রেন ব্যাপকভাবে মার্কিন সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল, তবে এখন ইউরোপীয় দেশগুলো সহায়তা বাড়িয়েছে এবং ইউক্রেন ড্রোনভিত্তিক হামলা বৃদ্ধি করেছে।
বর্তমানে ইউক্রেনের জন্য ১৫৫ মি.মি. আর্টিলারি শেলের ঘাটতি একটি বড় সমস্যা, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ছিল এর প্রধান সরবরাহকারী। তবে ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলো যদি প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখে, তাহলে বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হতে পারে।
এছাড়া, মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত। তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে যুদ্ধের গতি দ্রুত বদলাবে না, তবে এটি একটি কূটনৈতিক বার্তা বহন করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।




















































