আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমন শুধু ভূরাজনীতিতেই নয়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কাঠামোতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের পর যদি দুই দেশ কৌশলগত সহযোগিতার পথে এগোয়, তাহলে জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ খাতে যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতির শক্তির ভারসাম্যে নতুন রূপ দেখা যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সহযোগিতা যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় সুবিধাজনক অবস্থানে নিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলেও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যেও বিস্তৃত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত নথিতে এশিয়া অঞ্চলে চীনের সঙ্গে সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা কীভাবে চীনের বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করতে পারে, সে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। আফ্রিকায় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ আহরণে যৌথ উদ্যোগের প্রস্তাবও রয়েছে, যার লক্ষ্য ধাপে ধাপে চীনের ওপর নির্ভরতা কমানো।
এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার বিপুল গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের ভাণ্ডার যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন কৌশলগত সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ইউক্রেন শান্তিচুক্তিতে রাশিয়ার সহযোগিতার বিনিময়ে নির্দিষ্ট খাতে রুশ পণ্যের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় শিথিলতা আনা হতে পারে। এতে ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানসহ যুক্তরাষ্ট্রের এশীয় মিত্রদের যৌথ বিনিয়োগের পথ খুলে যেতে পারে।
এ ধরনের ব্যবস্থায় একদিকে যেমন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের চীনের সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর নির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে রাশিয়াও চীনের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়াতে পারবে। জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে রাশিয়ার আর্কটিক এলএনজি প্রকল্পে পশ্চিমা বিনিয়োগের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এতে রাশিয়া–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এক ধরনের কৌশলগত পারস্পরিক নির্ভরতা তৈরি হবে, যা উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক হতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপ, আর্কটিক ও পূর্ব এশিয়ায় নিরাপত্তা চাপ কিছুটা কমবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এ ধরনের কাঠামোর মাধ্যমে রাশিয়া বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রান্তিক অবস্থান থেকে ধীরে ধীরে কেন্দ্রের দিকে অগ্রসর হতে পারে। আর যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় আরও সংগঠিত ও কার্যকর অবস্থান নিতে পারবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি বাস্তবে এমন উত্তেজনা প্রশমন ঘটে, তবে তা শুধু দুই দেশের সম্পর্কেই নয়—পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতির গতিপথেই মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারে




















































