📍 ডেস্ক রিপোর্ট | ঢাকা | ১৮ জুলাই ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক আলোচনায় বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায় বাংলাদেশ সরকার। আগামী সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
বুধবার (১৭ জুলাই) এক ফোনালাপে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানান, মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) বাংলাদেশের কাছে তিনটি বিস্তারিত ট্যারিফ প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এগুলো পর্যালোচনা করে আগামী দু’এক দিনের মধ্যেই জবাব পাঠানো হবে।
তিনি বলেন, “শুল্ক ইস্যুতে একাধিক মন্ত্রণালয় জড়িত থাকায় একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শনিবার অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বাংলাদেশের অবস্থান চূড়ান্ত করা হবে।”
গোপনীয়তা চুক্তির কারণে তথ্য গোপন
তবে আলোচনার সূচনাপূর্বে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট (NDA) থাকার কারণে সচিব বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, “কিছু শুল্ক বহির্ভূত ইস্যু আছে, যেগুলোও এনডিএর আওতায় পড়েছে।”
তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার জন্য ব্যবসায়ী সংগঠন ও নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।
শুল্ক ইস্যুতে উদ্বেগ, চাপ বাড়ছে রপ্তানিকারকদের
যুক্তরাষ্ট্র কতগুলো পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশ চেয়েছে তা নির্দিষ্টভাবে জানা না গেলেও বাংলাদেশের মোট ৭,৪৪৬টি ট্যারিফ লাইনের তুলনায় সংখ্যাটি অনেক কম বলে জানা গেছে।
তৃতীয় দফা আলোচনার দিনক্ষণ এখনো নির্ধারিত হয়নি। তবে ১ আগস্টের আগেই ওয়াশিংটনে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ ওই দিন থেকেই ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্কহার কার্যকর হওয়ার কথা।
বাণিজ্য সচিব বলেন, “আলোচনার তারিখ নির্ধারণে ইউএসটিআরকে অনুরোধ জানানো হবে আগামী শনিবারের বৈঠকের পর।”
ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা
স্প্যারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম বলেন, “আমার মার্কিন ক্রেতারা ইতিমধ্যে দাম কমানোর চাপ দিচ্ছে। এক মিলিয়ন শার্টের অর্ডার পেতে কম দাম দিতে হয়েছে, কারণ ক্রেতা ভারতে সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে।”
তিনি আরও বলেন, “যদিও বাংলাদেশ কিছু বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পায়, তবে ভারতে উৎপাদন খরচ তুলনামূলকভাবে কম বলে মনে করা হচ্ছে। সরকার এখনও কার্যকর অগ্রগতি দেখাতে পারেনি বলে হতাশা রয়েছে।”
বেসরকারি খাত এখনও বাইরে
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, “বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এখনো আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি, তবে ভবিষ্যতে করতে পারে।”
পটভূমি: মার্কিন বাজারে অবস্থান হুমকিতে
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক বাজারে শেয়ার ৯.২ শতাংশ। চীন ও ভিয়েতনামের পরে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক। গত বছর দেশটি প্রায় ৮.২ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে।
তবে, নতুন ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হলে পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। ফলে বাংলাদেশ থেকে অর্ডার কমে অন্য দেশগুলোতে চলে যাওয়ার সম্ভাবনাও বেড়েছে।




















































