কাঠমান্ডু আবারও অস্থিরতার কেন্দ্রে। দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভে জ্বলে ওঠা পার্লামেন্ট ভবন ধ্বংসস্তূপে পড়ে আছে। সেই সংসদ ভেঙে দেওয়ার প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তকে এখন অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে আটটি বড় রাজনৈতিক দল পুনর্বহালের দাবি তুলেছে।
গত শুক্রবার অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে নিয়োগ দেন প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্র পৌডেল। তাঁর সুপারিশেই প্রতিনিধি সভা ভেঙে দেন প্রেসিডেন্ট। অথচ, শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) নেপালি কংগ্রেস, সিপিএন-ইউএমএল ও মাওবাদী সেন্টারসহ প্রধান দলগুলো এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, জনগণের ভোটে গঠিত সংসদ ভাঙা অসাংবিধানিক সিদ্ধান্ত।
আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত থেকে। নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পরও আন্দোলন দমেনি, বরং ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। অগ্নিসংযোগ, পুলিশের গুলি আর রক্তপাত—সব মিলিয়ে গত সপ্তাহে অন্তত ৫০ জন নিহত হন।
প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির পদত্যাগ, সেনাদের রাস্তায় নামা এবং কাঠমান্ডুতে আগুন—সব মিলিয়ে নেপাল পার করল কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকট।
৭৩ বছর বয়সী সুশীলা কার্কি শপথ নিয়েছেন নেপালের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। দুর্নীতিবিরোধী ভাবমূর্তির কারণে তাঁকে সমর্থন জানিয়েছে তরুণদের ‘জেন-জি আন্দোলন’-এর নেতৃত্বও। তবে তাঁর সামনে রয়েছে একাধিক চ্যালেঞ্জ: আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, ভাঙচুর হওয়া সংসদ ভবন পুনর্গঠন, তরুণদের আস্থা অর্জন আর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা।
কাঠমান্ডুর রাস্তায় সেনারা ব্যারাকে ফিরে গেছে, তবে রাজনীতি এখনও উত্তপ্ত। ভাঙা সংসদ ফের গড়ার দাবি আর মার্চে ঘোষিত নির্বাচনের প্রস্তুতি—এই দুই চাপের মধ্যে দিয়ে এগোতে হচ্ছে নেপালকে।




















































