চার বছরের মধ্যে প্রথমবার, বেসরকারি খাতের স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক ঋণ ১০ বিলিয়ন ডলারের নিচে

0
209

দেশের বেসরকারি খাতের স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক ঋণ চার বছরের মধ্যে প্রথমবার ১০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি শেষে এ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯.৮ বিলিয়ন ডলার। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে এটি ছিল সর্বোচ্চ ১৬.৪২ বিলিয়ন ডলার। এর আগে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে এ ঋণের পরিমাণ ছিল ৯.২ বিলিয়ন ডলার।

২০২১ সালে এই ঋণ এক বছরে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার বেড়ে ১৫.৪৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। তবে সম্প্রতি বিনিময় হারের অস্থিরতা, দেশের ক্রেডিট রেটিং কমে যাওয়া, এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর ঋণসীমা হ্রাস পাওয়ায় স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক ঋণ কমছে।

সিনিয়র ব্যাংকাররা জানান, গত দুই বছরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমায় বিদেশি গ্রাহক ও ব্যাংকগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের প্রতি আস্থা হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ক্রেডিট রেটিং “নেগেটিভ” করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

২০২২ সালের ডিসেম্বরে বেসরকারি খাতের বকেয়া বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ছিল ১৬.৪২ বিলিয়ন ডলার। তবে ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মাত্র তিন মাসে তা ২.৩ বিলিয়ন ডলার কমে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এই ঋণের পরিমাণ এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ১.৪৫ বিলিয়ন ডলার কমেছে।

এক শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা জানান, বিদেশি সরবরাহকারীদের কাছ থেকে আগের মতো ক্রেডিট লিমিট না পাওয়ায় এবং বিনিময় হারের অস্থিরতার কারণে এই ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ঋণে বর্তমানে ৮ শতাংশের মতো সুদ দিতে হয়, যা দেশে ১২ শতাংশ সুদের তুলনায় লাভজনক। কিন্তু বিনিময় হারের ঝুঁকির কারণে অনেকে এই সুবিধা নিতে আগ্রহী নন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি শেষে ডেফারড পেমেন্ট বকেয়া কমে ৬৪৩ মিলিয়ন ডলারে নেমেছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এই পরিমাণ ছিল ৯৭২ মিলিয়ন ডলার। বায়ারস ক্রেডিটও এক বছরে ৫.৯৭ বিলিয়ন ডলার থেকে ৫.০৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

ব্যাংকারদের মতে, বিদেশি ব্যাংকগুলো আগের মতো দীর্ঘমেয়াদি ঋণ প্রদান করছে না। ইউপিএএস এলসি এবং বায়ারস ক্রেডিট নেওয়ার সক্ষমতাও কমে গেছে।

ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল আর কে হুসেইন বলেন, বিনিময় হারের অস্থিতিশীলতা স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক ঋণ কমার প্রধান কারণ। তবে তিনি মনে করেন, রেমিট্যান্স এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ভালো থাকলে ডলারের ওপর চাপ কমবে।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ১৯.৯৬ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতেও অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে আগামী কয়েক মাসে এই ঋণের পরিস্থিতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আশা করা হচ্ছে না।

Previous articleছয় মাসে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা
Next articleলবণ শিল্প রক্ষায় মহেশখালী-কুতুবদিয়া ফোরামের মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here