ঢাকা, ৫ মে — বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চলমান সমালোচনার জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, এ ধরনের চুক্তিকে বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বরং অন্যান্য দেশের সঙ্গে হওয়া অনুরূপ চুক্তির সঙ্গে তুলনা করেই মূল্যায়ন করা উচিত।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের চুক্তিপত্রটি ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার মতো দেশের চুক্তির সঙ্গে মিলিয়ে পড়লে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ একা এই ধরনের চুক্তি করেনি। বিশ্বের আরও অনেক দেশ একই ধরনের শর্তে চুক্তি করেছে। যেমন, ইন্দোনেশিয়ার চুক্তিতে আরও বেশি সংখ্যক বাধ্যতামূলক ধারা রয়েছে। তাই বাংলাদেশের চুক্তি নিয়ে আলোচনা হোক, তবে তা হোক তথ্যভিত্তিক ও তুলনামূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে।”
একই দিনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরও চুক্তিটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ না করার আহ্বান জানান। সকালে নিজ মন্ত্রণালয়ে ব্রেন্ডন লিঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক চুক্তি সবসময় দুই পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় করেই সম্পাদিত হয় এবং এতে ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা থাকে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এই চুক্তির সূচনাকারী না হলেও রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়েছে।
চুক্তি বাতিলের দাবি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত কোনো চুক্তি ব্যক্তিগত চুক্তির মতো ইচ্ছামতো বাতিল করা যায় না। তবে দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো ধারা থাকলে চুক্তির মধ্যেই তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।
এ ধরনের সংশোধন ব্যবস্থাকে তিনি ‘সেলফ-কারেক্টিং এলিমেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “অতিরিক্ত উদ্বেগ বা আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। প্রয়োজন হলে আলোচনার মাধ্যমে সমন্বয় করা সম্ভব।”




















































