রিজার্ভ ধরে রাখা ও নীতি সুদহার এখনই না কমানোর পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের

0
115

নিজস্ব প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় রিজার্ভ সংরক্ষণ, নীতি সুদহার এখনই না কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে অস্বাভাবিক ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে পরামর্শ দিয়েছেন শীর্ষ আট অর্থনীতিবিদ।

শনিবার –এ গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে তারা এসব পরামর্শ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান।

বৈঠকে অর্থনীতিবিদেরা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের প্রকৃত প্রভাব এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। তবে ও –এর মধ্যে উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি সরবরাহ, প্রবাসী আয় ও ডলার বাজারে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। তাই এখন থেকেই সতর্ক অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।

তারা বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যবহার না করে সংরক্ষণে জোর দিতে হবে। বিশেষ করে রিজার্ভ থেকে ডলার খরচ করে আমদানি অর্থায়নের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তারা।

জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে বৈঠকে। প্রয়োজনে ও –সহ অন্যান্য উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।

অর্থনীতিবিদেরা মনে করেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়লেও তা এখনই সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ে সমন্বয় না করাই ভালো। এতে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তারা আরও বলেন, বর্তমানে মূল্যস্ফীতি উচ্চপর্যায়ে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নীতি সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত এখনই নেওয়া ঠিক হবে না। বৈশ্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে বিনিয়োগ বাড়াতে সুদের হার কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

বৈঠকে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুত ঋণ দ্রুত ছাড় করার উদ্যোগ নেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি তেল আমদানির জন্য থেকে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখতে বলা হয়।

বৈঠকে আরও বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লে প্রবাসী আয়ের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। শ্রমিকদের যাতায়াতে সমস্যা হলে রেমিট্যান্স প্রবাহে ধাক্কা লাগার আশঙ্কা রয়েছে। তাই রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান দায়িত্ব পালনে সততা বজায় রাখার কথা বলেছেন এবং কোনো রাজনৈতিক চাপে সিদ্ধান্ত না নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোকে রাজনৈতিক চাপের বাইরে থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

অর্থনীতিবিদেরা দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দেন, যা সময় সময়ে অর্থনীতির অবস্থা বিশ্লেষণ করে নীতিনির্ধারকদের অবহিত করবে। এতে বাজারে অযথা আতঙ্ক তৈরি হওয়ার ঝুঁকি কমবে।

Previous articleনির্বাচনের পর আবার ফ্যাসিবাদের চেহারা দেখা যাচ্ছে: সারজিস
Next articleপরিকল্পিত যাকাত ব্যবস্থাপনায় দারিদ্র বিমোচন সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here